চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

পাঁচ বছর আগে ৩ কাঠা জমি বিক্রি করার পরেও আবারো জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ ক্রয় সূত্রে প্রকৃত মালিকের৷ কাঠা প্রতি ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা করে কিনে নেয়ার পরেও হামলায় নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে জমির প্রকৃত মালিক। ৫ বছর ধরে জমির মালিকানা থাকলেও হামলার পর সদর উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রামের মৃত কালু মন্ডলের ছেলে মোক্তার হোসেন, তার বড় ভাই মো. জাব্বার আলী ও তাদের পরিবার হুমকিতে রয়েছে। এনিয়ে নিজের প্রাণ ও জমির নিরাপত্তা চেয়ে প্রকৃত মালিক মো. মোক্তার হোসেনের ভাই জাব্বার আলী সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেছেন।
জিডি ও জমির প্রকৃত মালিকের বড় ভাই জাব্বার আলী সূত্রে জানা যায়, ৫ বছর আগে বারঘরিয়া ইউনিয়নের বেতবাড়ীয়া মৌজার ১৬৭৬ নং দাগের ১০৬৪ নং প্রস্তাবিত খতিয়ানের ৩ কাঠা জমি কিনে নেয় মোক্তার হোসেন। প্রত্যেক কাঠা জমির বিনিময়ে মোক্তার হোসেনকে গুনতে হয় ১ লক্ষ ৬০ হাজার করে টাকা। এমনকি এতোদিন জমিটি রেজিস্ট্রি করার পর ব্যবহার করেছেন। তাতে কোন বাধা বিপত্তি আসেনি। কিন্তু কয়েকদিন আগে জমিটিতে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে বাধা দেয় জমি কেনাবেচার ব্যবসায়ী সদর উপজেলার মহারাজপুর-বাইড়্যাপাড়া গ্রামের তালেব হোসেনের ছেলে মো. নাসিম (৫০) ও তার লোকজন।
জমির প্রকৃত মালিকের বড় ভাই জাব্বার আলী বলেন, ভাই রাজমিস্ত্রীর কাজে রাজধানী ঢাকায় থাকায় আমি অভিযোগ করেছি। জমিটিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য ইট, রড, বালি, সিমেন্ট নিয়ে আসি এবং পিলার তোলার কাজ শুরু করি। গত সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে হামলার মূল হোতা নাসিম, তার ব্যবসায়িক পার্টনার বারঘরিয়া লক্ষীপুর আরশাদ আলীর ছেলে মো. নাইমুল (৩০), জেলা শহরের মসজিদপাড়া এলাকার জার্জিসের ছেলে মো. আলাল (৩৫), পিয়ারাবাগান মহল্লার মো. টুলুসহ তার লোকজন নিয়ে দখলের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। এসময় শহরের মাস্তান গুন্ডা এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে পিলার ভেঙ্গে ফেলে। এতে আনুমানিক ২ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও হামলার সময় বাধা দিতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে জরুরী সহায়তা কেন্দ্র ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

প্রতিবেশী মো. আব্দুল হালিম বলেন, জমিটি কেনার পর এতোদিন ভোগদখল করেছে মুক্তার ও তার পরিবারের লোকজন। কিন্তু হঠাৎ করে আবার জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে জমি কেনাবেচার ব্যবসায়ী নাসিম ও তার গুন্ডা বাহিনী। এমনকি দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে তারা। ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এবিষয়ে কথা বলার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও মূল অভিযুক্ত মো. নাসিমকে পাওয়া যায়নি। তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর মডেল থানার এএসআই আব্দুল করিম জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে