ছবিঃ সংগৃহীত

রাজপরিবারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মের্কেল। হলিউড টক শো তারকা অপরাহ উইনফ্রেকে তারা সাক্ষৎকার দেন।এরপরই রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা জরুরি বৈঠকে বসেন।

মঙ্গলবার এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিবিসি সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বাকিংহাম প্যালেস তড়িঘড়ি করে প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের সাক্ষাৎকারে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার প্রয়োজন অনুভব করছেন না।এর আগে সোমবার প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারিত হয়। এতে এই দম্পতি বর্ণবাদ, মানসিক স্বাস্থ্য, সংবাদমাধ্যম ও রাজপরিবারের।অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে কথা বলেন। সেখানেই ব্রিটিশ রাজপরিবারের গোমর ফাঁস করেন মেগান।মেগানের মা একজন কৃষ্ণাঙ্গ ও বাবা শ্বেতাঙ্গ।
টকশোতে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারে বিয়ে করার আগ পর্যন্ত তিনি অতি সরল ছিলেন। কিন্তু সহযোগিতা চেয়েও আদৌ না পাওয়ার পরে তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দেয় এবং নিজের ক্ষতি করার চিন্তাও তিনি করেছিলেন।মেগান বলেন, ‘ওরা ওকে প্রিন্স বা প্রিন্সেস বানাতে চায়নি, ওর লিঙ্গ কী হবে তা না জেনেই। এটা রীতিবিরুদ্ধ হতো। আর এ কারণেই পরবর্তী সময় ও নিরাপত্তাও পেত না।’রাজপরিবারের অজ্ঞাতনামা এক সদস্য হ্যারির কাছে জানতে চেয়েছিল তাদের পুত্রের গায়ের রঙ ‘কতটা কালো’ হতে পারে। হ্যারি অবশ্য অপরাহ উইনফ্রেকে জানান, ডিউক অব এডিনবার্গ কিংবা রানি এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি।তিনি বলেন, ‘অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন মাসগুলোও আমার একইরকম ছিল, বারবার ওই কথাগুলোর মধ্যেই আমরা ছিলাম, ‘তোমাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে না, এমনকি কোনো উপাধিও না। আর ও যখন জন্মাবে তখন ওর গায়ের রং কেমন হবে তা নিয়ে উদ্বেগ আর কথাবার্তাও চলছিল।’তবে কে বা কারা এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি মেগান। তিনি এ বিষয়গুলো নিয়ে নিজেই চুপ ছিলেন নাকি তাকে চুপ করানো হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে মেগান বলেন, ‘শেষেরটি’।
লেবার পার্টির নেতা স্যার কেইর স্ট্যারমার জানান, বর্ণবাদ ও মানসিক স্বাস্থ্য সহযোগিতা চেয়েও না পাওয়ার ব্যাপারে মেগান যে অভিযোগ করেছেন তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত।প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।অবশ্য সোমবার তিনি বলেছেন, ‘রাজপরিবারের ঐক্যের জন্য রানির ভূমিকার জন্য তার প্রতি সবসময় সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রয়েছে।’এই বহুল প্রতীক্ষিত সাক্ষাৎকারটি এমন এক সময়ে এলো যখন একদিকে মেগান-হ্যারি এবং অন্য দিকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের মধ্যে তিক্ত বিবাদ চলছে। প্রিন্স হ্যারি ও মেগান সম্প্রতি তাদের রাজকীয় দায়িত্ব ত্যাগ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রেলেবার পার্টির ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাস শুরু করেন।