চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার লোলাপুর গ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার পচা কিসপট্টার জমি জবর-দখল, নারীদের উপর বর্বর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে রহনপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, গোমস্তাপুর উপজেলা শাখার ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে রহনপুর পৌর এলাকার খোয়াড়ের মোড় থেকে ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নারী-পুরুষেরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। প্রায় এক কিলোমিটার পথ বিক্ষোভ মিছিল করে তাঁরা ইউএনও কার্যালয়ের সামনে পথসমাবেশ করে। এসময় বক্তব্য দেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, সাধারণ সম্পাদক সবিন মুন্ডা, সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল রাজোয়ার, দপ্তর সম্পাদক সুভাষ হেমব্রম, পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি বিচিত্রা তিরকি, ছাত্রনেতা তরুণ মুন্ডা, হামলার শিকার মানোসমনি কিসপট্টা, পচা কিসপট্টা প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া পচা কিসপট্টার জমিতে একটি জালিয়ত-ভূমিদস্যু চক্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারী জোর করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে যায়। এ সময় পচার স্ত্রী পালো তিগ্যা, মেয়ে রুমালী কিসপট্টা, ভাতিজি মানোসমনি কিসপট্টা, চঞ্চমনি তিগ্যা বাধা দিতে গেলে জালিয়াত চক্রের লোকজন তাঁদের লাঠি, লোহার রড ও কিল-ঘুষি দিয়ে বেদম মারপিট করে। হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে পালো তিগ্যার হাত গুরুতর জখম করে। চঞ্চমনিকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় পালো তিগ্যাকে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় পরদিন থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মতর্কা (ওসি) দিলিপ কুমার দাস মামলা না নিয়ে তাঁদের আপোষ-মিমাংসার পরামর্শ দেন। এরপর গত ৪ মার্চ বিচিত্রা তিরকিসহ আরও কয়েকজন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ থানায় গেলে মামলা গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়ে ওসি তাঁদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করে থানা থেকে বের করে দেন।
সমাবেশে বক্তারা থানার ওসিকে অপসারণ, হামলাকারী ও জালিয়াতচক্রের সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। শেষে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি দেন নেতৃবৃন্দ।
ইউএনও মিজানুর রহমান স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে গোমস্তাপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, ৪ মার্চেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে। তাঁরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বাড়াবাড়ি করেছে। বিচিত্রা তিরকি ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।