দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে গত নয়দিনে সাড়ে হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। রবিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন

তিনি জানান, গত জানুয়ারি মাসে সরকার পেঁয়াজের ওপর শতকরা ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এ বন্দর দিয়ে প্রায় সাড়ে ৩’শ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। কিন্তু সরকার আবারও শতকরা ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। চলতি মার্চ মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি আবারও বন্ধ হয়। ৪ মার্চ থেকে পুনরায় সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। রবিবার পর্যন্ত ভারত থেকে ২৯১টি ট্রাকে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে প্রায় ৬ হাজার ৫’শ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এসেছে বলে কাস্টমস ও পানামা সূত্রে জানা গেছে। দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দাম বাজারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান।

এক পেঁয়াজ আমদানিকারক দুরুল হাসনাত বাবুল জানান, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে কিছুটা দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে। এভাবে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত থাকলে রমজান মাসের আগেই পেঁয়াজের দাম আরও কমে যাবে বাজারে।

সোনামসজিদ সহকারী কমিশনার কাস্টমস মমিনুল ইসলাম জানান, সোনামসজিদ বন্দরে আমদানিকৃত পেঁয়াজসহ অন্যান্য পণ্য দ্রুত ছাড়করণের লক্ষে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা যেনো পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে কোনো হয়রানি না হয় সেজন্য সার্বক্ষণিকভাবে রাজস্ব কর্মকর্তারা তদারকি অব্যাহত রেখেছেন।

পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভারত থেকে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্য পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত খালাসের জন্য অতিরিক্ত শ্রমিক দেয়া হয়েছে। এই বন্দরে পণ্য ছাড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করায় ব্যবসায়ীরা অন্য বন্দর সোনামসজিদ বন্দর সকল প্রকার পণ্য আমদানি অব্যাহত রেখেছেন। দেশের পেঁয়াজ চাষি ও ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভেবে সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেননি। ফলে গেল বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন করে কোনো আমদানি অর্ডার না থাকায় ভারত থেকে পেয়াঁজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়।