কপাল ভরা সিঁদুর টিপ, লাল পাড় সাদা শাড়ী, চুলে অল্প পাক ধরেছে। এক ঝলকে দেখলে অচেনা মনে হতেই পারে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়কে। পাশেই কালো শাড়িতে সমান মোহময়ী অনন্য়া চট্টোপাধ্যায়। নায়িকা দুই, পর্দা এক। ওয়েব সিরিজের নাম – ‘মোহমায়া’। কাজ করতে গিয়ে ‘প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী’ নাকি সর্বদাই ঝগড়া, মারামারি লেগে থাকত দুই অভিনেত্রীর মধ্যে।!
এই প্রথম একসঙ্গে কাজ করছেন স্বস্তিকা-অনন্যা। শ্যুটিং এর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হাসিতে ফেটে পড়লেন দুজনেই। স্বস্তিকা বলছেন, ‘ মানুষের একটা ধারণা আছে, দুজন নায়িকা একসঙ্গে থাকলেই ঝগড়া হয়। আমরা মানুষের সেই ধারণাটাকে ঠিক প্রমাণিত করার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সব করেছি।‘ হাসি থামিয়ে অনন্যা যোগ করলেন, ‘রীতিমতো মারামারি, চুলোচুলি করেছি মেকআপ নিয়ে.. সবকিছু নিয়ে। সেটে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ ছিল।‘
তবে একবার চরিত্রের মধ্যে ঢুকে গেলে আর কিছুই মনে থাকত না তাঁদের। স্বস্তিকা বলছেন, ‘আমি তো মাঝে মাঝে কাট শুনতে পেতাম না। যখন দেখতাম অনেক লোক জড়ো হয়ে গিয়েছে তখন নিজেদের সামলাতাম।‘ টিজারে একটি দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, বারন্দায় একসঙ্গে বসে চিৎকার করে কাঁদছেন দুজনেই। সেই কথা তুলে অনন্যা বললেন, ‘ওই দৃশ্যটা কখন কেটেছে আমরা কেউ জানি না। এত কেঁদেছিলাম সবাই ভয় পেয়ে চুপ করে দাঁড়িয়েছিল। বোধহয় ভাবছিল আমরা কখন থামব বা আমাদের কীভাবে থামানো যায়।‘

নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েছেন টলিউডের একঝাঁক তারকা। অনেকেই আবার প্রার্থীপদে দাঁড়িয়েছেন। কাজেই এখন রুপোলি পর্দা থেকে বেরিয়ে মানুষের কাছে গিয়ে প্রচারে ব্যস্ত অভিনেতা অভিনেত্রীরা। টলিউডে থাকলে রাজনীতিতে যোগদান করাটা কি বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে? অনন্যা বললেন, ‘স্বস্তিকা আমায় একটা ভারি ভালো কথা শিখিয়ে দিয়েছে। তুমি বলবে না আমি?’ স্বস্তিকা অনন্যার হাত ধরে বললেন, ‘তুমিই বলো, আমি বললে বেশি কেস খাব।‘ কাজেই অনন্যাই দিলেন উত্তরটা, ‘রাজনীতিতে যোগদান বাধ্যতামূলক অবশ্যই নয়। আমরাই তো করিনি। যারা রাজনীতিতে যাচ্ছে যাক, আমরা সিনেমাটাই করি।‘ অনন্যার কথার রেশ ধরেই স্বস্তিকা বললেন, ‘ আমি ভীষণ নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে ভালোবাসি। আর সবার জন্য কাজ করার এত লোক.. ভিড়…। আমি এমনিতেই অনেকের জন্য অনেক কিছু করি। আমার বাবা ছোটবেলা থেকে বলেছিলেন, বাঁ হাত করলে যেন ডান হাত না জানতে পারে। যাঁরা এত দেশের দশের কাজ করছে তাঁদের জন্য আমাদের শুভেচ্ছা, আমরা যারা তিন-চারজন পড়ে থাকব, তারা বরং বেশি বেশি করে সিনেমাটাই করব। ওটা করতেই আমরা বেশি ভালোবাসি।‘ ফের একযোগে হেসে ফেললেন দুই নায়িকা।
অনন্যা-স্বস্তিকা ছাড়া মোহ মায়ার দেখা যাবে সদ্য অভিনয়ে আসা বিপুল পাত্রকে। নতুনদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? স্বস্তিকা বলছেন, ‘আমার ৩ ছেলেমেয়ে ছবিতে। ওরা সব্বাই খুব হার্ডওয়ার্কিং, প্রথম প্রথম অনেকেই একটু দ্বিধায় থাকে। কিন্তু বিপুল একেবারে পাকা খেলোয়াড়। ও মাঠে নেমেই ব্যাটিং শুরু করেছে। এই কাজটার অভিজ্ঞতা ভীষণ ভীষণ ভালো।‘
কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালিত প্রথম ওয়েব সিরিজ মোহমায়া। অনন্যার প্রথম কাজও বটে। আগামী ২৬ মার্চ ‘হইচই’ -তে মুক্তি পাচ্ছে নতুন এই ওয়েবসিরিজ। স্বস্তিকা বললেন, ‘এই গল্পটা এমন যেটা দেখে প্রথমেই হয়ত বলা যাবে না খুব ভালো লাগল। গল্পটার মধ্যে মিশে যেতে হবে, সময় দিতে হবে। তবে এটুকু বলব, বাংলা ওয়েবসিরিজে এমন কাজ খুব একটা হয়নি।