চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জেলার ৫ লাখ পরিবারের নিকট পৌঁছে দেয়া হচ্ছে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের আমন্ত্রণপত্র। সুবর্ণ জয়ন্তীর সকল অনুষ্ঠানে পুরো জেলাবাসীকে সম্পৃক্ত করতে ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের তথ্য সকলের মাঝে পৌঁছে দিতেই নেয়া এই উদ্যোগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ। তিনি জানান, জেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, গ্রাম পুলিশ, ছাত্রলীগ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এইসব আমন্ত্রণপত্র বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। গত সোমবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আমন্ত্রণপত্রে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০ দিন ব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বিষয়, সূচি ও ভেন্যু উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও আমন্ত্রণপত্রে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রয়েছে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের। জেলা প্রশাসকের বক্তব্যে তিনি মুক্তিযোদ্ধাসহ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৫ আগস্টের কালরাতে শত্রুর নির্মম বুলেটের আঘাতে শহীদ হওয়া স্বাধীন বাংলাদেশের স্থাপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং ৩ নভেম্বর ঢাকার কারাগারে নির্মমভাবে হত্যার শিকার শহীদ জাতীয় চার নেতাকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ নেতৃত্বে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, অত্যাধুনিক হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যৎকেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল উল্লেখযোগ্য।
আমন্ত্রণপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারায় সাবেক গৌড়ের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়ও ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম স্থলবন্দর সোনামসজিদকে আধুনিকায়ন করার কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। বিলভাতিয়াকে ঘিরে গ্রহণ করা হয়েছে আধুনিক এগ্রোবেজড ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, যা এই অঞ্চলের কৃষি ও শিল্পে বিপ্লব ঘটাতে সাহায্য করবে। মহানন্দা নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে শেখ হাসিনা সেতু এবং নির্মিত হচ্ছে রাবার ড্যাম। আধুনিক সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। রেলপথে যোগাযোগের উন্নয়ন হিসেবে সারাদেশের সাথে আন্তঃনগর ট্রেন যোগাযোগ চালু হয়েছে। এ জেলায় পাসপোর্ট ভবন, যুব উন্নয়ন ভবন, বাফার গুদাম ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়েছে। ৬টি মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পথে। নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিকমানের ম্যাংগো মার্কেট। আমের রাজধানীতে উৎপাদিত ক্ষিরসাপাত দেশের তৃতীয় জিআই পণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেছে। এই জেলায় সর্বমোট ৫৬ হাাজর ৭৯৫ জনকে বয়স্ক ভাতা, ২১ হাজার ৬৫৭ জনকে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা, ২৫ হাজার ১৭০ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতা, ৭ হাজার ৮৮৯ জনকে মাতৃত্বকালীন ভাতা, ৯ হাজার ২০৬ জনকে চলি­শ দিনের কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেয়া হচ্ছে। গৃহহীনদের জন্য ১ হাজার ৩৮৯টি জমিসহ ঘর প্রদান করা হয়েছে, ১ হাজার ৪৭৮টি ঘর নির্মাণ চলছে। এই জেলার সকল গৃহহীনদের জন্য এ বছরেই গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হবে।
আমন্ত্রণপত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার হারানো সংস্কৃতি, লোকগীতি, গম্ভীরা, আলকাপ, ঝান্ডি খেলাধুলা ইত্যাদিকে জীবিত করার জন্য ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। পদ্মা, মহানন্দা, পুনর্ভবা ও পাগলা বিধৌত এবং ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির লীলাভূমি, আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা। রেশম শিল্পের সূতিকাগার, কাঁসা শিল্প, নকশিকাঁথা, বাংলাদেশের দৃষ্টিনন্দন পুরাকীর্তি ছোট সোনামসজিদ, তাহখানা, প্রকৃতির লীলাভূমি বাবুডাইং চাঁপাইনবাবগঞ্জকে করেছে সারাদেশে অনন্য।
আমন্ত্রণপত্রের পরিশেষে জেলা প্রশাসক বলেছেন, সূচি মোতাবেক মাস্ক পরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সকল অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনীত আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে জেলার প্রতিটি মানুষের দাওয়াত পাওয়া উচিত। তাই গ্রাম বাংলার মানুষগুলোর কাছে আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। সেই সঙ্গে দেশের এবং এই জেলার কি উন্নয়ন হয়েছে তাও তুলে ধরা হয়েছে। সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।