চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতির কারণে আবারো লকডাউন ঘোষণায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন বাজার, দোকানপাট, ব্যাংকে ভিড় জমাচ্ছে সাধারণ মানুষ। তবে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন বালাই নেই। সোমবার (০৫ এপ্রিল) হতে ৭ দিনের লকডাউন ঘোষণায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মজুদ রাখতেই এমন ভিড়। রবিবার (০৪ এপ্রিল) সকালে জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার ও সড়কে দেখা যায়, লকডাউন ঘোষণার পর প্রস্তুত নিতে বাজারে ভিড় করছেন অনেকেই। এতে বাজারমুখী রাস্তায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। লকডাউনের ঘোষণায় সকল জরুরি সেবা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যদ্রব্যের দোকানপাট খোলা রাখার সীধান্ত নেয়া হলেও অতিরিক্ত পন্য কিনতে ব্যস্ত ক্রেতারা।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিট, জেলা শহরের পুরাতন বাজারস্থ ডাচ বাংলা ব্যাংক চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখায় গিয়ে দেখা যায়, ব্যাংকিং সেবা শুরুর আগেই অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকেই। ব্যাংক খোলার সাথে সাথেই লম্বা লাইন। এসময় দেখা যায়, ব্যাংকের নির্ধারিত বসার জায়গায় স্থান না হওয়ায় দাঁড়িয়ে আছেন অনেকেই। ম্যানেজার মো. রাশেদ মামুন বলেন, সরকারের সীধান্ত অনুযায়ী লকডাউনেও চালু থাকবে সকল ব্যাংকিং কার্যক্রম। তারপরেও সাধারণ মানুষ না বুঝেই ব্যাংকে এসে ভিড় করছেন। অনেকেই মনে করছেন ব্যাংকিং সেবা বন্ধ থাকবে, তাই টাকা তুলছে। মাস্ক না থাকলে কাউকে ব্যাংকে ডুকতে দেয়া হচ্ছে না জানিয়ে তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ডাচ বাংলা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হতে কোন নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। আজকের (রবিবার) মধ্যেই নির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে এবং সে অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে। এছাড়াও লকডাউনের মধ্যেও ২৪ ঘন্টা এটিএম বুথের সেবা চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।
সদর উপজেলার ইসলামপুরের খাদিজা বেগম বলেন, স্বামী প্রবাসে থাকে। বেতনের টাকা পাঠিয়েছে। কয়েকদিন পরে টাকা তোলার কথা থাকলেও হঠাৎ লকডাউনের ঘোষণায় আজকেই (রবিবার) তুলতে এসেছি। টাকা তোলা হয়ে গেলে বাজারে গিয়ে বিভিন্ন তরকারি, শাকসবজি, মসলা কিনে নেব। কারন লকডাউনে সব বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

জেলা শহরের পুরাতন বাজারের কাঁচাবাজার, আলুপট্টি, মসলা বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যেই বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ বাজার করছেন। সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের চাঁপাই-মহেশপুর গ্রামের শিক্ষার্থী ইসমোতারা খাতুন বলেন, মা-ফুফু-দাদিকে নিয়ে বাজার করতে এসেছি। লকডাউনের পরিধি আরো বাড়তে পারে। তাই অন্তত ১৫ দিনের জন্য সাংসারিক বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পন্যদ্রব্য নিতে বাজারে এসেছি। প্রত্যেকটি পন্যের দাম বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
মুদি দোকানী আশরাফুল ইসলাম জানান, লকডাউনের কারনে প্রচুর ভিড় করছে ক্রেতারা। আমাদের কোন প্রস্তুতি ছিলো না, হঠাৎ করেই এমন ভিড়। এমনকি কালকের বাজারও স্বাভাবিক ছিলো। সকল পন্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। আলু ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন, আলুর বাজারে এমন পরিস্থিতি জীবনেও দেখিনি। আলুর বাজারে কালকে তেমন কোন ভিড় ছিলো না। সাধারণ মানুষ লকডাউনে ঘরবন্দী হয়ে যাওয়ার ভয়ে বাজারে এমন ভিড় করছেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, এমন পরিস্থিতিতে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন পন্যদ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। লকডাউনে কোন বিক্রেতা যাতে অহেতুক দাম বাড়াতে না পারে, তা কঠোরভাবে দমন করবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আগামীকাল (সোমবার) থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়ে নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করা হবে।