চরফ্যাসন(ভোলা) প্রতিনিধি।।
ভোলা চরফ্যাসন উপজেলার শশীভূষণ থানার চরকলমি ইউনিয়নের ৫ নংওয়ার্ডের কৃষক মো.খোকন মাঝি (৫০)।এ বছর ১৬ একর জমিতে ১৮ লক্ষ টাকা ব্যায়ে তরমুজ চাষ করেছেন।অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে গত প্লাবিত হয়ে লোনা পানিতে তলিয়ে গেছে তার ফসল।যে সময় ফসল বিক্রি করার কথা ঠিক তার পূর্ব মুহূর্তে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে সব তরমুজ গাছ মরে গেছে।১৬ একর জমির মধ্যে সামান্য কিছু তরমুজ বিক্রি করতে পারলেও বাকি তরমুজ জমিতে রয়ে গেছে।  লকডাউনের কারণে বিক্রি করা সম্ভব হয় নাই। জোয়ারের পানি আর না আসলেও লবণাক্ততা থাকায় পানি চলে যাওয়ার পরও তরমুজ গাছ মরে যাবে।

গত বুধবার (১লা এপ্রিল) থেকে চরফ্যাশন উপজেলায় পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারে পানির উচ্চতা বাড়ছে। প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টায় দুবার জোয়ার হচ্ছে। প্রতিবার জোয়ারে অন্তত ৮-১০ ঘণ্টা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ফলে চরফ্যাসন উপজেলার শশীভূষণ থানার চর কলমি ইউনিয়নের কিছু জায়গায় বেড়িবাঁধ না থাকায় বিস্তীর্ণ এলাকা তিন-চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানির উচ্চতা আরও বাড়ছে। এতে তরমুজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।জোয়ারের পানি লবণাক্ত হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে।

স্থানীয় তরমুজ ব্যবসায়ী মো.তোফাজ্জল বলেন, জোয়ারে পানিতে প্লাবিত এসব এলাকার বহু কৃষক আদৌ কোনো ফসল ঘরে তুলতে পারবে কিনা, এ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এরমধ্যে তরমুজের ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। অনেক জায়গায় তরমুজ চাষিদের ডুবে যাওয়া খেত থেকে ফসল বাঁচানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে দেখা গেছে। আবার অনেক কৃষকদের লোকসান গুণে হতাশা করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে চরফ্যাসন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.আবু হাচনাইন জানান,জোয়ারের পানিতে তরমুজের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিকসহ অন্যান্য সহায়তা দেয়ার জন্য তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হবে। এছাড়াও কয়েকদিনের মধ্যে জোয়ারে পানির চাপ কমে আসবে বলেও জানান তিনি।