ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন শীতলকুচিতে সরকারী বাহিনীর গুলিতে নিহতদের পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিহতদের সম্মানে আজ রোববার রাজ্যজুড়ে কালো দিবস পালন করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি তিনি ‘গণহত্যা’ বলেও মন্তব্য করেন।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে মমতা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্রে মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অযোগ্য বলে কটাক্ষও করেছেন।
দলের পক্ষ থেকে ফান্ড তৈরি করা হবে বলেও সম্মেলনে জানান মমতা। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকে তাতে ১০০ টাকা দেবেন। সেই অর্থ তুলে দেওয়া হবে মৃত ও আহতদের পরিবারের হাতে। ভোট চলাকালীন রাজ্য সাহায্য করতে পারে না। তাই রাজ্যের তরফে কমিশনের কাছে সাহায্যের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সে বিষয়ে জানানো হবে। যারা মারা গিয়েছেন তাদের পরিবারের দায়িত্ব সম্পূর্ণ আমাদের। আমার যেটুকু আছে সব দিয়ে সাহায্য করব।’
এদিকে আজই শীতলকুচি যাওয়ার কথা ছিল মমতার। তবে, কমিশনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি যেতে পারছেন না। অবশ্য, তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন। কনফারেন্সে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন মমতা। একই সঙ্গে আগামী বুধবার তাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবেন বলেও তিনি জানান।
অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গের শীতলকুচিতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে পাঁচজন নিহতের ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উসকানিকে দায়ী করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাজ্যটিতে এক নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
নরেন্দ্র মোদি আরো বলেন, ‘মমতা দিদি এখন নির্বাচনি সভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘেরাও করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। ছাপ্পা ভোট দেওয়ার নির্দেশনাও দিচ্ছেন তিনি। এসব করে কিছু হবে না। নিজের লোকেরা ছাপ্পা ভোট দিতে পারছে না বলে দিদি রেগে যাচ্ছেন। আমাকেও খারাপ কথা বলছেন।’
উল্লেখ্য, সহিংসতার পর শীতলকুচিতে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই ঘটনা নিয়ে বিকেল পাঁচটার মধ্যে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সূত্র : আনন্দবাজার, এনডিটিভি