জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী প্রতিনিধি

‘আলোকিত কাস্টমস, আলোকিত দেশ’ ও ‘অতিক্রম নয় ব্যতিক্রম’ শ্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে অর্থবছরের প্রথম থেকে কাজ করছে কুমিল্লা টিম। দেশে টানা লকডাউন চলছে। রমজান মাসে কুমিল্লায় অন্যবিধ কর্মযজ্ঞ। ব্যবসায়ীদের মনোযোগ বেচাকেনায়। কর্মচারীরাও ব্যস্ত। অনলাইন রিটার্নের তথ্য উপাত্ত পাওয়া কঠিন। ১৫ তারিখের রাত ১২ টার মধ্যে রিটার্ন জমা শেষ করতে হবে।  এ দিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরও সমাগম। পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিনতর হচ্ছে। মার্চ মাসে কুমিল্লার মান রক্ষা হলেও এপ্রিলের ভাগ্য নিয়ে চিন্তিত কুমিল্লার (সিইভিসি) কর্মবিলাসী টিম।
টানা লকডাউন, মাহে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতর নিয়ে কর্মকর্তারা রিটার্ন দাখিল নিয়ে ছিল চিন্তিত; তবুও থেমে থাকেনি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কুমিল্লার (সিইভিসি) কর্মবিলাসী টিম।

কিভাবে অনলাইন রিটার্ন দাখিল সফল করা যায় ঈদের ছুটির আগের দিন কমিশনার মহোদয়ের কক্ষে মিটিং করে কর্মকর্তাদের মধ্যে  কাজ ভাগ করে দেয়া হয়। অনেক কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি ভোগ করলেন না। তারা অনলাইন রিটার্ন দাখিলের কাজ অগ্রাধিকার দেন। কেউ কেউ ছুটি নিয়েও ছুটি বাতিল করে অফিস করেন। লক্ষ্য, কুমিল্লা ভ্যাট টিমকে নবমবারের এর মত চ্যাম্পিয়ন করা। অন্যান্য কমিশনারেটগুলোও রিটার্ন দাখিলের হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরে ছুটিতে কুমিল্লা কর্মমুখর ছিল। আজ সংবাদ পাবার পর টীম অধিক স্পন্দিত ও  কর্মচঞ্চল।

নানা বৈরিতার মধ্যে কাজ করতে হয় টীমকে। অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমাদানের সময় সার্ভারে ক্রটি, বিদ্যুৎ ভোগান্তি। ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন অফিসে এসে ম্যানুয়াল রিটার্ন পেপার জমাদান করতে পারছিলনা। নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বসে থাকেনি এ কমিশনারেটের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে কুমিল্লা ভ্যাট অন্যান্য মাসের মতো এপ্রিল মাসেও অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন জমা করেছে।

আর এই প্রতিযোগিতায় গত ০৯ মাস ধরে প্রথম স্থান ধরে রেখেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, কুমিল্লা। এপ্রিল  মাসে এই কমিশনারেটে অনলাইনে রিটার্ন জমা হয়েছে ৯৬.০৮%। ম্যানুয়াল ও অনলাইন সহ রিটার্ন দাখিলের হার  ৯৬.২১%। এরকম ব্যতিক্রমী সাফল্যের পিছনে রয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপায়নের অঙ্গীকারে সক্রিয় থাকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কুমিল্লার (সিইভিসি) কর্মবিলাসী টিম। আর এ টিমকে ক্যারিশমেটিক নেতৃত্ব দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মূল কারিগর হলেন কুমিল্লা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী।