মোঃ নাদিম হোসেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥
করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি প্রতিরোধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় কঠোর লকডাউনের আজ ১৩তম দিন এবং ২য় দফায় ৭দিন লকডাউন এর ৬ষ্ঠ দিন রবিবার। কঠোর লকডাউন চললেও সরকারী নির্দেশনা মানছেন না মফস্বল এলাকার মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হলেও তেমন একটা কাজে আসছে না। জেলা শহরের লকডাউনের কার্যকারিতা থাকলেও জেলার মফস্বল এলাকায় এখনও মাস্ক পরা বা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এমতাবস্থায় জেলার সংক্রমন কমে ৪০.৬৮% তে নেমেছে । গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৪৯টি, করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত ১৪২জন। যা শতকরা প্রায় ৪০.৬৮%। ২য় দফা লকডাউন চলাকালেও করোনা সংক্রমন উর্ধ্বমূখী থাকলেও গত ২৪ঘন্টায় ১৪% কমেছে। জেলায় করোনায় মোট মৃত্যু ৫৯জন। ১ম দফা লকডাউনে জেলায় করোনা সংক্রমনের হার শতকরা ৩৪% এ নেমে এসেছিলো। বৃহস্পতিবার (৩জুন) সংক্রমনের হার ছিলো প্রায় ৪৩%। শুক্রবার (৪জুন) সংক্রমনের হার ছিলো প্রায় ৪২% এবং শনিবার (৫জুন) সংক্রমনের হার প্রায় ৫৫%। রবিবার (৬জুন) সংক্রমনের হার প্রায় ৪১%। কঠোর লাকডাউন চলাকালে করোনা সংক্রমনের হার উর্ধ্বমূখী হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্থ জেলার সচেতন মহল। এদিকে, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ‘ডেলটা’ ভাইরাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগী সনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ স্বাস্থ্য বিভাগের।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ সুত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বর্তমানে করোনা রোগী চিকিৎসাধিন রয়েছে ১৩২৩ জন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ২৪৮৯ জনের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। জেলায় করোনায় মারা গেছে মোট ৫৯জন। গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৪৯টি, করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত ১৪২জন। শতকরা প্রায় ৪০.৬৮%। ২য় দফা লকডাউন চলাকালেও করোনা সংক্রমন অনেকটাই উর্ধ্বমূখী। ভারত থেকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে মোট ৯৪জন। এর মধ্যে ২৪জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে অবমুক্ত করা হয়েছে। জেলায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪৬৪জন রোগী। সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জোরালোভাবে অনুরোধ জানান সিভিল সার্জন।
উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসক ও জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. মঞ্জুরুল হাফিজ গত ৩১মে দুপুরে এক প্রেসব্রিফিং এ আরও ৭দিন, ৩১ মে দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত ২য় দফা  লকডাউন বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। সোমবার (৭জুন) রাত ১২টায় শেষ হবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২য় দফার লকডাউন।