চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥
হোটেল ব্যবসার আড়ালে মাদক ও গুন্ডি ব্যবসা চালানোর গোপন সংবাদে অভিযান চালিয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের ‘জীবন হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট’ এর মালিক মোঃ জীবন আলীকে আটক করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ রহনপুর ৫৯ বিজিবি সদস্যরা। রবিবার রাত ৭টা থেকে রবিবার ভোররাত ৪টা পর্যন্ত চালানো এই অভিযানে আটক জীবন আলী (৩০) শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ এলাকার বালিয়াদিঘী গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে। রহনপুর ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ আমীর হোসেন মোল্লা, পিএসসি বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞতিতে সোমবার বিকেলে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ জুন রাত ৭টা হতে ১৪ জুন রাত ৪টা পর্যন্ত অত্র ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, বিজিবিএমএস এর নেতৃত্বে সোনামসজিদ এবং শিয়ালমারা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে ১৩ জুন রাত ৯টার দিকে সীমান্ত মেইন পিলার ১৮৫/১৭-এস হতে আনুমানিক ৩৫ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সোনামসজিদ স্থলবন্দর জিরো পয়েন্টে জীবন হোটেল এন্ড রেষ্টুরেন্ট তল্লাশী করে হোটেল মালিক মোঃ জীবন আলী কে ৯’শ পিস ভারতীয় রুপি, ভারতীয় সিম কার্ড ১টি এবং তার হোটেলের পিছনে বেড়ারপাশে মাটির নিচে পুতে রাখা ২ হাজার ৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তির তথ্যের ভিতিত্তে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে একই এলাকার মোঃ সাবির আলীর ছেলে মোঃ সামিউল (২৫)কে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃত মালামালের সর্বমোট সিজার মূল্য ৬ লক্ষ ৩ হাজার ৩৯০ টাকা।
সংবাদ বিজ্ঞতিতে আরও জানানো হয়, আসামী জীবনের স্বীকারোক্তি এবং ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। আসামী জীবন রাতের আধারে ভারতে পালিয়ে যায় এবং ভারতীয় মহিলা চোরাকারবারী মোছাঃ সাবানা (২২) স্বপ্না, প্রাক্তন স্বামী-সাকীল, গ্রাম-সুজাপুর, থানা-কালিয়াচক, জেলা-মালদা এর বাড়ীতে অবস্থান করে। উল্লেখিত সাবানা (স্বপ্না) একজন দূর্ধর্ষ চোরাকারবারী যার মাধ্যমে জীবন চোরাচালান করে থাকে। অভিযান পরিচালনাকালে (১) মোঃ তহুরুল (৩০), পিতা-সাকিম হোসেন (২) সোবাহান (৩৫), পিতা-ওসমান উভয়ের গ্রাম-বালিয়াদিঘী (৩) মোঃ মাহিদুল (ডাগরী) (৪০), পিতা-কুদ্দুস মোড়ল, গ্রাম-শিয়ালমারা, ডাকঘর-সোনামসজিদ, থানা-শিবগঞ্জ, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ পালিয়ে যায়। আটককৃত ইয়াবা, ভারতীয় রুপি, সীমসহ ধৃত এবং পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে ভারতীয় চোরাকারবারীরা যাতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে সেই লক্ষে সীমান্তে টহল ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর হতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।