টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্তের হার প্রতিদিনই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৪টি নমুনা পরীক্ষায় জেলায় ৯৫জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন শনাক্তের হার শতকরা ৩৭.৪০ শতাংশ। বুধবার (১৬ জুন) সকালে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৫ জুন) ২৭১টি নমুনা পরীক্ষায় ৮৫জনের করোনা শনাক্ত হয়- যার শতকরা হার ৩১.৩৬ শতাংশ। সোমবার (১৪ জুন) ২৩১টি নমুনা পরীক্ষায় ৭৭জনের করোনা শনাক্ত হয়, শতকরা হার ৩৩.৩৩ শতাংশ। রোববার (১৩ জুন) ৭১টি নমুনা পরীক্ষায় ২৩জনের করোনা শনাক্ত হয়- যা শতকরা হারে ৩২.৩৯ শতাংশ। এদিন টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। শনিবার (১২ জুন) ২১৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৭০জনের করোনা শনাক্ত হয়। যার শতকরা হার ৩২.৮৬ শতাংশ। এদিন জেনারেল হাসপাতালে একজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। শুক্রবার (১১ জুন) ১৮৫টি নমুনা পরীক্ষায় ৪৬জনের করোনা পজেটিভ হয়। যার শতকরা হার ২৪.৮৬ শতাংশ। এদিনও টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে একজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) ৪৬টি নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়। যার শতকরা হার ৩৯.১৩ শতাংশ। এদিন জেনারেল হাসপাতালে একজন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করে। বুধবার (৯ জুন) ১৫৮টি নমুনা পরীক্ষায় ৫০জনের করোনা শনাক্ত হয়। যার শতকরা হার ৩১.৬৪ শতাংশ, এদিন একজন করোনা রোগী জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। গত ৮ দিনে শনাক্তের গড় হার শতকরা ৩২.৪৮ শতাংশ। জেলায় এ পর্যন্ত করোনাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৯৫জন।

সূত্রমতে, এ পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৭১২জন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছে চার হাজার ৩৩৫জন। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে মোট ৩৬৭জন রোগী ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৬২জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর (রেফার্ড) করা হয়েছে ৬১জন। টাঙ্গাইল জেনালে হাসপাতালের আইসিউ বেডে বর্তমানে চার জন ও জেনারেল বেডে ১৮জন এবং কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচজনসহ জেলায় মোট ২৭জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান জানান, করোনা সংক্রমণের এ হার অব্যাহত থাকলে আগামি শনিবার (১৯ জুন) থেকে জেলার টাঙ্গাইল সদর, কালিহাতী ও মির্জাপুর উপজেলায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হবে। সংক্রমণের হার স্থিতিশীল বা কম হলে বেশি সংক্রমিত নির্দিষ্ট এলাকায় (ক্লাস্টার) লকডাউন দেওয়া হবে। তিনি করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনা, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।