চুয়াডাঙ্গা  প্রতিনিধি ঃ
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সীমান্ত জেলা চুয়াডাঙ্গায়। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু ও শনাক্তের হার। দিন দিন পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মানছে না অধিকাংশ মানুষ। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১০০ ভাগ। যা আগের দিন বুধবার ছিলো ৯২. ৭৫ শতাংশ। এ সময় আক্রান্ত হয়ে মারাগেছে আরও দুই জন। সরকারী হিসেবে এ নিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৯১ জনে। তবে বেসরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি।

আক্রান্তর এই রেকর্ড শুধু চুয়াডাঙ্গার না দেশেও এটাই প্রথম শতভাগ আক্রান্তর রেকর্ড।

বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে দেওয়া তথ্য জানানো হয়, আজ আমাদের হাতে যে রিপোর্ট এসে পৌছায়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে শতভাগ আক্রান্ত। এদিন ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ৪১ জনই করোনায় আক্রান্ত। স্বাস্থ্য বিভাগের রিপোর্ট শুনে উপস্থিত সকলে আতকে উঠেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় ডেল্টা ভেরিয়েন্ট অনেক আগেই শনাক্ত হেয়েছে সীমান্তবর্তী এই জেলায়। কিন্তু কি কারণে স্বাস্থ বিভাগ তা প্রকাশ না করে গোপন করছে সেটা এলাকার সচেতন মহলের কাছে বোধগম্য নয়।

কারণ একমাত্র করোনা আতংঙ্কই পারে মানুষকে ঘরমুখো করতে।

এদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা, আলুকদিয়া ইউনিয়ন, দামুড়হুদা এবং জীবননগর উপজেলায় লকডাউন চলছে। কঠোর বিধি-নিষেধের প্রথম দিন কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি মানলেও তারপর অনেকটা গা ছাড়াভাবে চলছে মানুষজন। যদিও প্রশাসনের তৎপরতার কমতি নেই। লকডাউনেও নানা অজুহাতে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে।

প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে পাড়া-মহল্লার দোকানপাট বেশির ভাগ খোলা থাকে। ফলে, এখানে সংক্রমণ আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার (২৩ জুন) রাতে চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ৪১টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসে। ৪১ জনই করোনা আক্রান্ত।

এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২ হাজার ৭৯৬ জনে।

এদিকে জেলার দুই সীমান্তবর্তী উপজেলায় চলছে লকডাউন। জীবননগরে গতকাল বুধবার সকাল ৬টা থেকে সর্বাত্নক কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। আজ তার দ্বিতীয় দিন।

এর আগে গত ২০ জুন চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা ও শহরতলী আলুকদিয়া ইউনিয়নে ৭ দিনের লকডাউনের আজ ৫ম দিন। এছাড়া গত ১৫ জুন থেকে চলা দামুড়হুদা উপজেলা ১৪ দিনের লকডাউনের আজ ১০ম দিন।

এসব জায়গায় লকডাউন চলছে নামে মাত্র। কোথাও কোন স্বাস্থ্যবিধি মানার চিত্র চোখে পড়েনি। তবে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে লকডাউন মানাতে অভিযান চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বুধবার রাত ১০ টা পর্যন্ত ৮টি মোবাইল কোর্টে ৫২ টি মামলায় ৫৪ জনকে ৭৪ হাজার ৪শ টাকা জরিমানা, দুই জনকে কারাদণ্ড ও ৩০টি ইজিবাইক জব্দ করেছে প্রশাসন। শহরের মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশের তল্লাশি চৌকি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯৭ জনে। এদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬১ জন, বাসায় আইসোলেশনে আছেন ৬৩৩ জন ও রেফার্ড করা হয়েছে ৪ জনকে।

সক্রিয় রোগীর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ২৭২ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ২০৫ জন আলমডাঙ্গা উপজেলার ৯৪ জন ও জীবননগর উপজেলার ১২৬ জন রয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ৫১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৬৬৮ জনের।

এদিকে করোনা আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যু হলো ৯১ জনের।

চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার (এমওডিসি) আওলিয়ার রহমান জানান, বুধবার রাতের করোনা প্রতিবেদনে জেলার শতভাগই শনাক্ত হয়েছেন। এদিন নতুন করে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে খোদ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেই মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। বহির্বিভাগে রোগীদের উপচেপড়া ভীড় হলেও তাদের মাঝে নেই সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে জনবলের অভাবে বহির্বিভাগে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।