ষ্টাফ রিপোর্টার : বাসাবাড়ির ময়লা নিয়ে কাটছে না অব্যবস্থাপনা। চার-পাঁচ দিন ধরে বাসায় বাসায় ময়লার দুর্গন্ধ ছড়ালেও দেখা মেলে না পরিছন্নতাকর্মীদের। এ নিয়ে তাদের কিছু বলতে গেলে আরো বিপদ। তখন সারা সপ্তাহেও আসেন না তারা। যার কারণে ময়লা জমে দেখা দেয় প্রচণ্ড দুর্গন্ধ। এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ। ঢাকা উত্তর সিটি ও দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে এমন সমস্যা থাকলেও নতুন ওয়ার্ডগুলোতে এ অব্যবস্থাপনা আরো বেশি।
সিটি করপোরেশন আইনে বলা হয়েছে, করপোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার পাত্র বা অন্যকোনো আধারের ব্যবস্থা করবে। করপোরেশন সাধারণ নোটিশ দিয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়িঘর ও জমির দখলদারদের তাদের ময়লা বা আবর্জনা উক্ত পাত্র বা আধারে ফেলার জন্য নির্দেশ দিতে পারবে।’ এই আইন অনুযায়ী, করপোরেশন নির্ধারিত স্থান থেকে ময়লা সংগ্রহ করে ভাগাড়ে নিয়ে যাবে। আর নাগরিকরা তাদের বাসাবাড়ির বর্জ্য করপোরেশনের নির্ধারিত পাত্রে পৌঁছে দেবে।
ন্তু দেখা গেছে, বর্তমানে বাসাবাড়ির বর্জ্য কোনো নাগরিকই সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেয় না। এই সুযোগে বিভিন্ন ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে করপোরেশনের নির্ধারিত পাত্রে পৌঁছে দিচ্ছে। এ জন্য প্রতিটি বাসা বা হোল্ডিং থেকে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
একেক জায়গায় একেক রকম টাকা আদায় করলেও বাসা বাড়িতে যে পরিমাণ ময়লা আবর্জনা তৈরি হয় তা প্রতিদিন না নেওয়ায় বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হয় নাগরিকদের। কিন্তু বেসরকারিভাবে বিভিন্ন এলাকায় গড়েওঠা এসব প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি করার কেউ নেই। ইচ্ছেমতো টাকা নেওয়ার পাশাপাশি মনগড়া সপ্তাহে তিন-চার দিন পরপর বা এক সপ্তাহ পরেও আবর্জনা নেওয়া হচ্ছে। আবার কিছু এলাকায় প্রতিদিন নিলেও তা নির্দিষ্ট সময়ে নেওয়া হচ্ছে না।জানা যায়, উত্তর সিটির দক্ষিণখান এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করে ফ্রেন্ডস ক্লিন ঢাকা নামে একটি সংগঠন। তারা প্রায় এক সপ্তাহ পরপর ময়লা সংগ্রহ করে। এতে ময়লা জমে স্তূপ হয়ে যায়। দুর্গন্ধ ছড়ায়। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ময়লা প্রত্যেক দিন না নিলেও প্রতি মাসে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের কিছু বললে উলটো ধমক খেতে হয় । তারা এর প্রতিকার চান।
উত্তর সিটির আইনুছবাগের আরেক বাসিন্দা বলেন, ময়লা সংগ্রহ একটি বড় ব্যবসা। সিটি করপোরেশন থেকে যারা নেন, তাদের নাকি এ কাজের জন্য বড় নেতাদেরও খুশি করতে হয়। এ কারণে আয়ও কমে যায়, পোষায় না। এই জন্য তারা লোকবল ঠিকমতো নিয়োগ দেন না। কোনো মতে চালিয়ে নেন।
এ বিষয়ে ফ্রেন্ডস ক্লিন ঢাকার কর্মকর্তা আবুল কাশেম জানান, এখন চারদিকে ময়লার পরিমাণ বেশি। তাই নিতে একটু দেরি হয়। ময়লার পরিমাণ বেশি হলে লোকসংখ্যা কেন বাড়ানো হয় না, জানতে চাইলে তিনি বলেন—লোকজন আছে কিন্তু প্রতিদিন গিয়ে পোষায় না।উত্তর সিটির নাখালপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা জানান, তার এলাকায়ও তিন থেকে চার দিন পরপর ময়লা নেওয়া হয়। একই অবস্থা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মানিকনগর এলাকায়। এই এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ময়লা নিয়ে ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ এক রকম জিম্মি। সংশ্লিষ্টদের কাছে অভিযোগ করলেও তেমন প্রতিকার পাওয়া যায় না।
এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এম সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য সংগ্রহের দায়িত্ব প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিয়ে থাকি। তাদের নির্দিষ্ট ফি নিয়ে ময়লা সংগ্রহের কথা বলা আছে। যারা বেশি নিচ্ছে তারা ঠিক কাজ করছে না। আর নতুন ওয়ার্ডগুলোতে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি এখনো। তারা নিচ্ছে তারা নিজ উদ্যোগেই নিচ্ছে।