রংপুর ব্যুরো: রংপুরের পীরগাছা উপজেলার ব্রাক্ষনীকুন্ডা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা-অনিয়ম,অর্থআত্মসাৎসহ নানা অপরাধের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
আজ শনিবার সকালে রংপুর মহানগরীর স্থানীয় এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহকারী শিক্ষক ফারুক হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ২০০৫ সাল থেকে অদ্যবধি নিজের শ্যালক শাহাজান মিয়াকে সভাপতি ও পক্ষের লোককে সদস্য বানিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে শিক্ষক ও কর্মচারী দের আর্থিক ও মানষিক নির্যাতন করছেন। বিদ্যালয়ের কর্মচারী দপ্তরি আমিনুল ইসলাম বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে গত  ১ মে ২০০৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়ে চাকুরী করে আসছেন।
কিন্তু এমপিওভুক্তির ১০ বছর পর ২০১৪ সালে জানুয়ারী মাসের এমপিওতে জন্মতারিখ ১৫-১০-১৯৭৮ এর স্থলে ১৫-১০-১৯৬২ বসানো হয়। এভাবে নৈশপ্রহরি আমজাদ আলীর ০৭/০৫/১৯৭৯ এর স্থলে ২১/০৩/১৯৬২ বসানো হয়। ফলে দপ্তরি আমিনুল ইসলামের চাকুরীর বয়সের আগেই অবসরে যাবেন এবং নৈশ প্রহরী আমজাদ হোসেন এর তিন বছর ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে। জন্মতারিখের সমস্যা তৈরী করে প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম সমাধানের জন্য প্রত্যেকের কাছে ৩ লক্ষ টাকা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় সমস্যা ঝুলে রাখা হয়েছে। যার কারনে দুজন কর্মচারী মানষিক ও আর্থিকভাবে সমস্যায় দিনযাপন করছেন।
এদিকে বিদ্যালয়ের চারজন সহকারী শিক্ষক্ষ ফারুক হোসেন, মাওলানা মশিউর রহমান, শফিকুল ইসলাম ও মোছাৎ রোকেয়া  বেগম বিএড স্কেল প্রাপ্তি হতে ১০ বছর পূর্ণ হয় ২০১৮ সালে। বিধিমতে ২০১৮ সালের পর হতে উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির যোগ্য হয় ঐই চার শিক্ষক। ফলে বেতনের সাথে আরো প্রতিমাসে ৬ হাজার টাকা যোগ হওয়ার কথা কিন্তু উচ্চতর স্কেলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় উচ্চতর স্কেল প্রাপ্ত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা অনুরোধ করলে তিনি প্রত্যেকের নিকট থেকে দেড় লক্ষ টাকা দাবী করেন। প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রতিমাসের বিলে স্বাক্ষর করার জন্য উৎকোচ গ্রহণ করেন। উৎকোচ না দিলে চাকুরীর ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা বিপদের ফেলার চেষ্টা করেন। ইতিমধ্যে এসব অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হলেও কোন সমাধান মিলেনি।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে কথা তিনি বলেন,আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা । আমি এইসব এর কিছু  জানিনা।
লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক ও কর্মচারী শিক্ষামন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করেন। সেই সাথে দ্রুত সমাধান করে স্বাভাবিকভাবে শিক্ষক ও কর্মচারীদের দায়িত্বপালনের সুযোগ চান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দপ্তরি আমিনুল ইসলাম, নৈশপ্রহরী আমজাদ হোসেনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।