চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি॥
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে করোনা রোগীদের ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেন্স সেবা দিচ্ছে জিকে ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জিকে ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এর আগে করোনার প্রথম ধাপে শিবগঞ্জের অসহায় দুস্থ রোগীদের কথা চিন্তা করে দুটি অত্যাধুনিক এ্যাম্বুলেন্স কিনে প্রতিষ্ঠানটি। জানা গেছে- এ্যাম্বুলেন্স দুটি প্রতিদিন একাধিক করোনা রোগী সহ সাধারণ রোগীদেরকেও শিবগঞ্জ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিনামূল্যে পৌঁছে দিচ্ছে। কোন রোগীর অবস্থা আরও বেশী খারাপ হলে তাকে ঢাকা পর্যন্তও সেবা দেয়া হচ্ছে। এমনকি আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের বিনামূল্যে পরিবহনের পাশাপাশি বিনামূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে জিকে ফাউন্ডেশন। এছাড়াও করোনাকালের শুরুতে এলাকার ২২ হাজার ও দ্বিতীয় ধাপে ১৮ হাজারসহ মোট ৪০ হাজার পরিবারকে খাবার সহায়তা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। স্বেচ্ছাসেবী এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা শিবগঞ্জের সন্তান ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম (বার) পিপিএম। জানা যায়, পাঁচ বছর আগে জিকে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয় শিবগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা কসিম উদ্দিন ও তার স্ত্রী গুলনাহারের নামে। কসিম উদ্দিনের ছেলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, শুধু একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, মানবিক মূলবোধ নিয়ে আমৃত্যু মানুষের পাশে থাকতে চাই। মানুষের সেবা করতে ভালো লাগে। করোনাকালে এক দিনের জন্য এলাকার লোকজন থেকে বিচ্ছিন্ন থাকিনি। সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। সুস্থ্য হয়ে আবার মাঠে নেমে পড়েছি। তিনি আরও বলেন, গত ঈদের ১০ হাজার মানুষের মাঝে শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। দিনমজুর, ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, ভ্যানচালক, পরিবহন শ্রমিক, ফেরিওয়ালা ও চায়ের দোকানিদের দেয়া হচ্ছে খাদ্য সহায়তা। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মাঝে দুই মাসের সকল ধরণের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, জিকে ফাউন্ডেশনে ২০ জনের একটি টিম রয়েছে যারা সংকটাপন্ন ব্যক্তির খবর পেলেই প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে তাদের বাড়িতে ছুটে যান। আবার অনেক করোনা আক্রান্ত রোগীর বাসায় রাতের আঁধারেও যে কোনও ধরনের সহায়তা নিয়ে একটি টিম চলে যায়। এরই মধ্যে ছয় লাখের বেশি মাস্কও বিতরণ করা হয়েছে। করোনাকালে যাতে এলাকার একটি মানুষও খাবারের কষ্টে না থাকে এটা নিশ্চিত করতে চাই।