সংবাদ সংযোগ ডেস্ক : সকালে ঘোষণা দিলেন জনগণের পক্ষে থাকবেন। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। আর বিকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি স্ত্রী ও দুজন বিশ্বস্ত সহকর্মীকে নিয়ে পালিয়ে গেলেন। তালেবান বাহিনী একটি গুলি না করেই রোববার আফগান রাজধানী কাবুল জয় করেছে। কোনো কোনো ভাষ্যমতে তিনি তাজিকিস্তানে গেছেন, কেউ কেউ বলছেন, তিনি গেছেন উজবেকিস্তানে। তিনি নিজেও তার অবস্থান প্রকাশ করেননি।
সিনিয়র তালেবান কমান্ডারদের ভাষ্যমেত, তাদের প্রথম যে দলটি রাজধানীতে প্রবেশ করে তাতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মোল্লা আবদুল কাইয়ুম জাকির। তিনিই প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণও গ্রহণ করেন।
মোল্লা আবদুল কাইয়ুম হলেন তালেবানের কমান্ডার-ইন-চিফ মোল্লা ইয়াকুবের ডেপুটি। তারা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দরজায় নক করার আগেই প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি স্থানটি ত্যাগ করে অন্য কোনো দেশের উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছেন।
তালেবানের ভাষ্যমতে, তারা কাবুলে প্রবেশ করতে কিংবা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে কোনা ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়েননি। তাদের আসার আগেই আফগান নিরাপত্তা বাহিনী সরে পড়েছিল।
তালেবান সূত্র জানায়, পাকতিয়া, খোশত, নাঙ্গাহার, কুনার, নুরিস্তানসহ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো এবং ওয়ারদাগ ও মাইদান শহর দখল করার পর তাদের যোদ্ধঅরা রাজধানীদের দিকে যাত্রা শুরু করে।
রোববার সকাল নাগাদ তালেবান বাহিনী কাবুলের ফটকগুলোর কাছে পৌঁছে যায় এবং বিভিন্ন দিক থেকে নগরীকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
তারা কাবুলে তখনই প্রবেশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদেরকে থামকে বলে, রাজধানী নগরীর ভেতরে প্রবেশ করতে না করে।
তালেবান সূত্রটি জানায়, তাদের নেতারা অব্যাহতভাবে আফগান সরকারের সিনিয়র রাজনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছিলেন। তারা চেয়েছিলেন, ক্ষমতার হস্তান্তর যেন হয় শান্তিপূর্ণ।
আফগানিস্তানের এক সিনিয়র তালেবান কমান্ডার জানান, তালেবান নেতৃত্ব কোনো ধরনের রক্তপাত চায়নি, বিশেষ করে কাবুলে কোনো রক্তক্ষরণ যাতে না হয়, তা তারা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। তারা তালেবান সামরিক কমান্ডারদের নগরীতে প্রবেশ করতে নিষেধ করে।
তিনি বলেন, আফগান নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী পালিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নগরীর কোনো কোনো স্থানে লুটপাট শুরু হয়েছে- এমন খবর পেয়ে তারা সন্ধ্যায় নগরীর ভেতরে প্রবেশ করে।
তালেবান সর্বোচ্চ নেতা শেখ হাবাতুল্লাহ আখুনজাদার ঘনিষ্ঠ তালেবান কমান্ডার জানান, শীর্ষ তালেবান নেতৃত্ব কাবুলে প্রবেশ করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সশস্ত্র লোকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তারপরই যোদ্ধারা নগরীর ভেতরে প্রবেশ করে।
তালেবান জানায়, সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে যান মোল্লা কাইয়ুম জাকির। সূত্রটি জানায়, মোল্লা জাকির একটি লাউডস্পিকারে প্রাসাদের নিরাপত্তা স্টাফদের বলেন যে তাদের ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করতে বলেন।
সূত্রটি জানায়, প্রাসাদের নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ কোনো ধরনের প্রতিরোধ চালায়নি। তিনি বলেন, একটি গুলি না চালিয়েই কাবুল দখল করা হয়েছে।
তালেবান যখন কাবুলের নিরাপত্তা ও রক্তক্ষরণ না হওয়া নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালাচ্ছিল, তখন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হচ্ছিল। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির সভাপত্তিতে তালেবান বা তৃতীয় পক্ষের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে তাতে আলোচনা হয়।
তালেবান সূত্রটি জানায়, বৈঠকে সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও অন্যাণ্য আফগান রাজনৈতিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা দুটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রথম বিকল্পটি ছিল, দোহার তালেবান নেতৃত্বের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। দ্বিতীয়টি হলো, তৃতীয় একটি পক্ষের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। তারাই পরে তালেবানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। কিন্তু তালেবান তা গ্রহণ করেনি। তারা তাদের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে বলে।
তালেবান জানায়, এই আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় আশরাফ গনি দেশ ত্যাগ করেন।