ষ্টাফ রিপোর্টার : করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেড় বছর বন্ধ থাকার পর প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলার তারিখ আগামী ১২ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছে সরকার। অথচ পূর্ববর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ অক্টোবরের পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা ছিল।
যদিও শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খোলার বিষয়ে মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসবে। যদি উপাচার্যরা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো একই সময়ে খোলার জন্য সম্মত হন, তাহলে তারা ১২ সেপ্টেম্বর খুলতে পারেন অথবা অন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা এখনও এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি।
এদিকে, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছেন, তারা সরকারের যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে চলার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু পুনরায় ক্লাস শুরু হওয়ার আগে প্রস্তুতির জন্য অন্তত এক সপ্তাহ সময় দরকার।
অন্যদিকে বাকিরা বলছেন, প্রাথমিক তারিখ তাদের সমস্যায় ফেলতে পারে কারণ সরকার আগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করে ইতোমধ্যেই ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যাম্পাস খোলার আগে আমাদের এক সপ্তাহের প্রস্তুতি গ্রহণের সময় লাগবে। যেহেতু অক্টোবরের মাঝামাঝি বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সময় নির্ধারিত ছিল তাই এই তারিখটি মাথায় রেখেই টিকা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। তাই আমাদের এই বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি প্রফেসর সত্য প্রসাদ মজুমদার জানান, ইতোমধ্যে তাদের ৫০% শিক্ষার্থী ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছে।
তিনি বলেন, “যদি আমাদের পরিকল্পিত সময়ের আগে ক্যাম্পাস পুনরায় চালু করার প্রয়োজন হয় তবে আমাদের প্রথমে একাডেমিক কাউন্সিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছিল। ভ্যাকসিন গ্রহণের তথ্যগুলো সব পেয়ে গেলে ১৫ সেপ্টেম্বরের পরে পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটিস অব বাংলাদেশ (এইউবি)-এর সভাপতি এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ভিসি প্রফেসর মো. রফিকুল আলম বলেন, ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বৈঠকের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।