গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘আমার অস্তিত্বজুড়ে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা। যে কারণ দেখিয়ে বহিষ্কার করা হয়েছে তা আমি কখনোই করতে পারি না। আমি ভুল করেছি, তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাই।’সদ্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় জাহাঙ্গীর আলমকে। এরই পরিপ্রক্ষিতে আজ শনিবার সংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যটা জানতেন অবশ্যই আমার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নিতেন না। আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হয়েই বেঁচে থাকার সুযোগ চাই।’জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি গাজীপুর আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছি। আমাকে যদি ফাঁসিও দেওয়া হয় তা মেনে নেবো তবে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীর যেন কোনো ক্ষতি না হয়। আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আমি কোনো আইনজীবী নেবো না। কারণ আমার অভিভাবক শেখ হাসিনা।’ তিনি বলেন, ‘আমি পারিবারিক শিক্ষা থেকে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের শিক্ষা পেয়ে আসছি। ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত এসেছি। আমি ভুল করে থাকতে পারি, তবে অন্যায় করিনি।’

এ সময় বাড়িঘর দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে মেয়র জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি জনগণের জন্য রাস্তা তৈরি করতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমি চেয়েছি। তারা ভালোবেসে ৮০০ একর জমি দিয়েছেন।’

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে তাকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আওয়ামী লীগের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

জাহাঙ্গীর আলমকে দল থেকে বহিষ্কারের পর শুক্রবার রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শুধু গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেই নয়, দলের সাধারণ সদস্য পদ থেকেও তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে দলীয় ফোরামে সকলের মতামত চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সময় সবাই জাহাঙ্গীরকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দেন।

 

Share Button