• বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০৩ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা নিধনকে উপেক্ষা করছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

আল ইসলাম কায়েদ
আপডেটঃ : বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সেনাবাহিনী বড় ধরনের জাতিগত নিধন অভিযান চালালেও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তা উপেক্ষা করছে বলে অভিযোগ করেছেন শীর্ষস্থানীয় দুটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। খবর এপির।

বুধবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠককে সামনে রেখে এ অভিযোগ করল মানবাধিকার সংস্থা দুটি।

তারা জানায়, জাতিসংঘের সবচেয়ে শক্তিশালী সংস্থা হয়েও নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারকে সহিংসতা বন্ধ করতে চাপ দিয়ে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগ ঠেকাতে যে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তার বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে তারা এ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেছেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে তিন লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ আসছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত এইচআরডব্লিউর পরিচালক লুইস শারবন্যু বলেন, মিয়ানমারে যেভাবে মানুষ মারা যাচ্ছে এবং গ্রামের পর গ্রাম জ্বলছে তা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্কট। ফলে ইস্যুটি নিজ হাতে মোকাবিলা করার বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের কোনো অজুহাত দেয়ার সুযোগ নেই।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে এখন যা ঘটছে তা আগেই অনুমান করা সম্ভব হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এমনটি যে ঘটতে যাচ্ছে তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনেক আগেই দেখা দরকার ছিল। অবশেষে গত বছর আমরা ছোটপরিসরে ব্যাপারটি ঘটতে দেখলাম যে রোহিঙ্গারা নিহত হচ্ছে, তাদের গ্রাম আগুনে পুড়ছে। বর্তমানে এসব ঘটনা আরও বড়পরিসরে ভয়াবহভাবে ঘটছে।

রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান যায়েদ রাদ আল হুসেইনের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে শারবন্যু বলেন, এটি বড় ধরনের জাতিগত নিধন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের দুই সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও সুইডেন কিছু ভালো কথা বলেছে, কিন্তু তাদের উচিত পরিষদকে চাপ দেয়া, যাতে একটি প্রকাশ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং পরিষদ রোহিঙ্গা বন্ধ, তাদের কাছে মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর সুযোগ দেয়া ও জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের তথ্যানুসন্ধান মিশনকে রাখাইনের ঘটনার তদন্ত করতে দেয়া হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন মিয়ানমারের সরকারকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা কক্সবাজারে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিচ্ছে, সেখানে এর দৃশ্য দেখেছেন অ্যামনেস্টির জরুরি সহায়তাবিষয়ক পরিচালক তিরান হাসান। তিনি এক ভিডিওবার্তায় একে মানবিক দুর্দশার সাগর আখ্যা দিয়েছেন।

নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরে আগুন জ্বলতে দেখার পাশাপাশি প্রতিদিনই ভীতসন্ত্রস্ত্র মানুষ আসতে দেখছে বলে জানান তিনি।

তিরান বলেন, পালানোর জন্য মানুষ দিনের পর দিন হাঁটছে, যা আসলে ব্যাপক বিস্তৃত এক পদ্ধতিগত এক নিপীড়ন।

মিয়ানমার সরকার বিদ্রোহ দমনের জন্য অভিযান চালাচ্ছে বলে দাবি করলেও এটি আসলে রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে চালানো অভিযান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পুলিশের চৌকিতে হামলা চালায় এবং মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের শেকড় উচ্ছেদে ‘বিতাড়ন অভিযান’ চালানোর নামে পাল্টা হামলা করছে। তবে সরকারি এ অভিযানের ফলে মানুষ মারা যাচ্ছে, গুম হচ্ছে ও গ্রাম পুড়ে যাচ্ছে; আর বাংলাদেশে আসছে শরণার্থীদের ঢল।

অ্যামনেস্টির কর্মকর্তা তিরান বলেন, পুলিশ চৌকিতে হামলার জবাবে আমরা যা ঘটতে দেখছি তা আসলে রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে চালানো সর্বাত্মক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। তিনি বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনার এ ঘটনাকে যে জাতিগত নিধনের আদর্শ উদাহরণ বলেছেন তার ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ একমত।

সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘে এইচআরডব্লিউর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অক্ষয় কুমার একটি মানচিত্র দেখিয়েছেন, যাতে স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে দেখা গেছে- গত ২৫ থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ২১টি জায়গায় আগুন জ্বলছে। এর মধ্যে গত ৩০ জানুয়ারি মংডুতে যেখানে ৪৫০টি ভবন দেখা গিয়েছিল ২ সেপ্টেম্বর তার সবই ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

তিরান হাসানের মতে, মিয়ানমার তার রোহিঙ্গা জনগণকে পুরোপুরি শূন্যে নামিয়ে আনছে।

Share Button


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

You cannot copy content of this page

You cannot copy content of this page