• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন

নতুন পথে কৃষি: সদ্ব্যবহার আবশ্যক

আল ইসলাম কায়েদ
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বিজ্ঞানের উৎকর্ষে বাংলাদেশেও কৃষিখাত আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক হয়েছে। সেচ, চাষ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি আধুনিক হওয়া ছাড়াও সব ফসলের ক্ষেত্রে অধিক ফলনশীল বীজ ব্যবহৃত হচ্ছে। একই অবস্থা হয়েছে মাছ, গাছ, পশু ইত্যাদির ক্ষেত্রেও। স্বাধীনতার পর হতে এ পর্যন্ত ৭৪টি উচ্চফলনশীল (উফশী) ও চারটি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা। এর মধ্যে ১৪টি জাত লবণাক্ততা, বন্যা ও খরাসহিষ্ণু। এছাড়া বাংলাদেশ আণবিক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)-এর বিজ্ঞানীরা ১৬টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন, যার চারটি লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু। এছাড়া, পাটের জীনও আবিষ্কার করেছেন তারা, যা বিশ্বে প্রথম। উপরন্তু পাট থেকে পচনশীল পলিব্যাগও আবিষ্কার করা হয়েছে এবং তা উৎপাদন হচ্ছে একটি সরকারি জুটমিলে। এটা ব্যবহৃত হলে পরিবেশের ব্যাপক কল্যাণ হবে। অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশ থেকেও প্রায় সব ফসলের হাইব্রিড জাত আমদানি করা হচ্ছে। এভাবে দেশে কৃষিখাতে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে ধান, সবজী, মাছ ও পশু চাষে। এসব উৎপাদনে দেশ প্রায় স্বয়ংভর হয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বে চাল উৎপাদনে চতুর্থ, সবজীতে তৃতীয়, মিঠা পানিতে চতুর্থ, সমুদ্রে মৎস্য আহরণে ২৫তম, ছাগল চাষে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। জামদানী শাড়ীর মত ইলিশ মাছও জিআই পণ্যের বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া, গবাদি পশু চাষেও প্রায় স্বয়ংভর হয়েছে। দুই বছর যাবত ভারত গরু দেওয়া বন্ধ করার পরও গরুর তেমন ঘাটতি নেই। তদ্রæপ হাঁস-মুরগী চাষও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু কৃষিখাতের এতোসব ঈর্ষণীয় উন্নতির পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাপক বিপত্তিও সৃষ্টি হয়েছে। যেমন- কৃষিতে ব্যাপক হারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার কারণে নানাবিধ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া প্রতিবছরই মাটির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। রফতানিও আশানুরূপ হচ্ছে না। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক দিয়ে উৎপাদিত খাদ্য গ্রহণে মানুষের মধ্যে অনিহা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের লোকজনের মধ্যে। এমনকি এ দেশেও। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ দেশের কৃষকরা পূর্বাবস্থায় তথা অরগ্যানিক খাদ্যের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কোনো ধরনের কৃত্রিম বা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ইত্যাদি ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও জৈব সার, পাশাপাশি রোগবালাই ধ্বংস করার মাধ্যমে উৎপাদিত ফসলকেই অরগ্যানিক খাদ্য বলা হয়। এর মূল্যও বেশি। তবুও অরগ্যানিক খাদ্যের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, চিকিৎসা খাতের উন্নতির কারণে মানুষ এখন ব্যাধি নিরাময়ের চেয়ে ব্যাধি প্রতিরোধের দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বেশি। তাই মানুষ ক্রমশ: অরগ্যানিক খাদ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। কারণ, অরগ্যানিক খাদ্য শরীরের জন্য খুবই উপরকারী, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ। উপরন্তু মাটির উর্বরতা হয় দীর্ঘস্থায়ী। দেশের একজন প্রখ্যাত পুষ্টিবিদের অভিমত হচ্ছে, এক সময় সব কিছুই তো প্রাকৃতিকভাবে হতো, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদনই অরগ্যানিক। এখন উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে বা দ্রæত উৎপাদন করতে গিয়ে আমরা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছি। কিন্তু আমাদের অরগ্যানিকেই ফিরতে হবে। আমরা আমাদের শরীরকে বিষাক্ত করতে পারি না। এখন হয়ত অরগ্যানিক খাদ্যের দাম বেশি। কিন্তু শরীরের কথা ও পুষ্টির কথা চিন্তা করলে এই বেশি দাম আমাদের দিতেই হবে। অপরদিকে, আরেক বিশেষজ্ঞের অভিমত হচ্ছে, জৈব খাদ্য বা অরগ্যানিক ফুড শরীরের চর্বি কমায় এবং পেশীর গঠনে সহায়তা করে। এছাড়া, ২০১৪ সালে নিউ ক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রমাণ করে দেখিয়েছেন অরগ্যানিক খাবারের উপকারিতা। তাতে বলা হয়েছে, সাধারণ সারমিশ্রিত ফসলের চেয়ে অরগ্যানিক ফসলে কীটনাশকের পরিমাণ এক চতুর্থাংশের চেয়েও কম থাকে। বিষাক্ত ধাতব উপাদানও কম থাকে। তাই এতে ক্যানসার প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অনেক বেশি মাত্রায় পাওয়া যায়। সর্বোপরি জৈবসার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল এবং সবজির উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই দেশে অরগ্যানিক খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর উৎপাদনও ক্রমান্বয়েই বাড়ছে। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ অরগ্যানিক এগ্রিকালচারাল মুভমেন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন ১৩৪টি এনজিও। এর মধ্যে ৪৭টি এনজিও সরাসরি অরগ্যানিক কৃষি নিয়ে কাজ করে। ৮৭টি টেকসই কৃষি নিয়ে কাজ করে এবং তিনটি কৃষি সংক্রান্ত অ্যাডভোকেসির সঙ্গে জড়িত। এসব সংগঠনের সাথে বহু কৃষক সংশ্লিষ্ট। তারা বিভিন্ন ফসল ছাড়াও অরগ্যানিকভাবে চা, মাছ, গবাদি পশু এবং হাঁস-মুরগির চাষ করছে। এভাবে বাংলাদেশের মোট চাষযোগ্য জমির ২ ভাগ এবং কৃষিপণ্যের ১০-১২ ভাগ অরগ্যানিক হয়েছে। এই খাদ্যের মূল্য স্বভাবতই কিছুটা বেশি। কারণ, প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশকের স্বল্পতা ছাড়াও দেশে অরগ্যানিক খাদ্যের সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা নেই। তাই অন্য দেশ থেকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এনে এবং বিপুল অর্থ ব্যয় করে সার্টিফিকেশন করাতে হয়। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে কৃষকের অভিমত।
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। সর্বোপরি বঙ্গোপসাগরেরও তীরবর্তী। তাই ব্যাপক ঝড়-ঝঞ্জা, জ্বলোচ্ছাস ও বন্যা প্রায়ই হয়। কখনো কখোনো এসব মারাত্মক আকার ধারণ করে। এতে করে ব্যাপক ফসলহানি ঘটে। কৃষকরা সর্ব শান্ত হয়ে পড়ে। খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। এই অবস্থায় দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা আপ্রাণ চেষ্টা করে বন্যা, লবণাক্ততা ও আগাম উৎপাদনের ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। যার অন্যতম হচ্ছে বিনা ১১ ও বিনা ৭। বিনা ১১ জাতের ধানের গাছ তিন সপ্তাহ পর্যন্ত পানির নীচে থেকেও বেঁচে থাকতে পারে। আর বিনা ৭ হচ্ছে- সাধারণ ধানের চেয়ে এক মাস আগেই উৎপাদিত হয়। দ্বিতীয়ত: এর উৎপাদন হারও ২০% বেশি। দেশের মঙ্গা এলাকায় এই ধান চাষ করে মানুষের কর্মহীন সময়ে কাজ সৃষ্টি করা এবং খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। আর বিনা ১১ জাতের ধান চাষ করার ফলে এবার স্মরণকালের ভয়াবহতম বন্যার পানির মধ্যে ডুবে থাকার পরও এই ধান বেঁচে গেছে। এ ব্যাপারে বিনার মহাপরিচালক স¤প্রতি আন্তর্জাতিক এক মিডিয়াকে বলেন, আমি নিজে দেখেছি, জামালপুরে এবার ভয়াবহ বন্যার পানিতে সব কিছু তলিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিন সপ্তাহের মধ্যে পানি নেমে যাওয়ার কারণে এই ধান বেঁচে আছে। তাই বিনা ১১ ও ৭ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে হবে। অপরদিকে, মাঝে মধ্যেই ব্যাপক জলোচ্ছ¡াসের কারণে উপকূল এলাকায় লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ে এবং তাতে করে ফসল পচে যায়। বায়ূমÐলের উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে সমুদৃপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে সাগর সংলগ্ন এলাকা তলিয়ে যাবার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিজ্ঞানীদের অভিমত। এটি হলে উপকূল এলাকায় ফসলহানি হবে সমুদ্রের লবণাক্ত পানির কারণে। তাই বিজ্ঞানীরা লবণ সহিষ্ণু ধানের জাত আবিষ্কার করেছেন। যা ব্যবহার করা দরকার।
কয়লা ও জ্বালানি তেল ব্যবহারের কারণে বায়ূমÐলের উঞ্চতা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নানাবিধ প্রকট সংকট সৃষ্টি হয়েছে বিশ্বে। তাই এটা প্রতিরোধ কল্পে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হয়েছে ২০১৫ সালে। এতে ১৯৫টি দেশ স্বাক্ষর করেছে। উক্ত চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বের তাপমাত্রা হ্রাস করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপীই কয়লা ও জ্বালানি তেল ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ও যানবাহন চালানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিবেশবিদরা এসব নিয়ে ব্যাপক সোচ্চার হয়েছেন। তাই উক্ত চুক্তির কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। চীন, ভারত, বৃটেন ইত্যাদি দেশ কয়লা ও জ্বালানি তেল ব্যবহার বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু বায়ুমÐলের উষ্ণতাবৃদ্ধির জন্য জীবাস্ম ব্যবহার দায়ী হওয়া ছাড়াও গরুও দায়ী। কারণ, গরু খাবারের পর যে যাবর কাটে, তা থেকে যে গ্যাস নির্গত হয়, সেটা বায়ুমÐলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। যার পরিমাণ কয়লা ও জ্বালানি তেল ব্যবহারের একদশমাংশ। এটা আবিষ্কার করেছেন কেনিয়ার বিজ্ঞানীরা। তাই দেশটির কর্তৃপক্ষ গরু চাষ হ্রাস করে বড় ও বেশি দুগ্ধদানকারী জাতের গরু পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা ঝড়, জলোচ্ছ¡াস, বন্যা ইত্যাদি মোকাবেলা করার ক্ষমতা আমাদের নেই। চীন তার দুঃখ হুয়াং হো নদীর উপর বাঁধ দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে ভাগ্য ফিরিয়েছে। কিন্তু আমাদের আর্থিক, মানসিক ও নেতৃত্বের সে সামর্থ্য নেই। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে মোকাবেলা করেই চলতে হবে আমাদের। সে লক্ষ্যে বন্যা ও লবণ সহিষ্ণু এবং আগাম উৎপাদনযোগ্য ধানের জাত চাষ করা আবশ্যক। সেই ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করে প্রাকৃতিক, জৈব সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে অরগ্যানিক ফসল উৎপাদন করার দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া অপরিহার্য। স্মরণীয় যে, পশুর গোবর, কেঁচো ও ময়লা আবর্জনা থেকে জৈব সার উৎপাদন করা যায়। ইংরেজীতে এই পদ্ধতিতে উৎপন্ন সারকে বলা হয় ‘ভার্মি কম্পোস্ট’। এই পদ্ধতিতে গাছের পাতা, খড়, গোবর, লতাপাতা, পচনশীল আবর্জনা খেয়ে কেঁচো মল ত্যাগ করে। সেই মল থেকেই তৈরি হয় কেঁচো সার। এছাড়া, মুরগির বিষ্ঠা, ধানের কুঁড়া, মাছ-মুরগির পাখনা ও পরিপাকতন্ত্র তথা পরিত্যক্ত অংশ একসাথে করে জৈব কম্পোস্ট সার তৈরি করা হয়। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক নিয়মেও ফসলের ব্যাধি নিরাময় করা যায়। যেমন: ফসলের জমিতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা হলে সে পাখি ফসলের কীট-পতঙ্গ খেয়ে ফেলে। ফলে ফসল রক্ষা পায়। এছাড়া, মেহগনি, পীতরাজ, গাছ আলু ও নিমের নির্যাস ব্যবহার করেও সবজি ও অন্যান্য ফসলের রোগবালাই দমন করা সম্ভব। উপরন্তু বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত সৌরশক্তিচালিত আলোক ফাঁদ দিয়েও কীটপতঙ্গ শনাক্তকরণ, পর্যবেক্ষণ ও দমন করা যায়। তাই এসব সারাদেশে প্রয়োজনানুগ করা দরকার। এছাড়া, দেশে অরগ্যানিক খাদ্যের সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা তথা সার্টিফিকেশন বোর্ড করা প্রয়োজন যথাশিগগির।
বাংলাদেশ এখনো মূলত: কৃষিভিত্তিক দেশ। জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় ১৬%, আর মোট কর্মসংস্থানের প্রায় অর্ধেকই কৃষিখাতে। তাই কৃষিখাতের উন্নতির দিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তবেই উন্নতি হবে টেকসই ও সার্বিক। সর্বোপরি খাদ্য সামগ্রীকে স্বাস্থ্যসম্মত, পরিবেশ বান্ধব ও স্বল্প ব্যয়ের জন্য কৃষির বর্ণিত পরিবর্তন তথা অরগ্যানিক খাদ্য উৎপাদনের দিকেও গুরুত্ব দিয়ে এ ক্ষেত্রে মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও সার্বিক সহায়তা করা প্রয়োজন। তাহলেই দেশে প্রয়োজনীয় পরিমাণে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন হবে ও মাটির উর্বরতা বজায় থাকবে এবং পরিবেশ রক্ষা হবে। ‘বাংলাদেশ ফুড সেফটি কনফারেন্স-২০১৭’-এ খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ১৮টি মন্ত্রণালয় এবং ৪৮০টি সংস্থার সমন্বয়ে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্য আদালত স্থাপন করা হয়েছে। তিনি জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে খাদ্য উৎদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগতমান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সর্বোচ্চ সজাগ থাকার আহবান জানান। অর্থাৎ নিাপরদ খাদ্যের জন্য ব্যাপক ব্যয় সম্বলিত বহু জনবল সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে। কিন্তু অরগ্যানিক খাদ্য উৎপাদন করা হলে নিরাপদ খাদ্যের জন্য সরকারের উক্ত বিশাল ব্যয়ও হ্রাস পাবে। অন্যদিকে, উন্নত যাতায়াত ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ৩৫% নষ্ট হয় বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাই এ ব্যাপারেও আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

Share Button


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

You cannot copy content of this page

You cannot copy content of this page