• বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

ইতিহাস গড়তে না পারার আক্ষেপ কোচ ছোটনের

আল ইসলাম কায়েদ
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকায় বিমানবন্দরে সানজিদা, কৃষ্ণা, নাজমা, মাহমুদা, স্বপ্না, রত্নাদের চোখেমুখে খুব একটা স্বস্তি ছিল না। অনূর্ধ্ব—১৬ মেয়েদের এই ফুটবল যেন কিছুতেই ভুলতে পারছিল না আগের রাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপেক্ষে ইতিহাসের দুয়ারে গিয়েও ছিটকে গেছে। খেলোয়াড়দের মনে এখনও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের লড়াইয়ের স্মরণীয় স্মৃতিগুলো বারবার ভেসে উঠছে।

 

গতকাল সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর খেলোয়াড়দের কণ্ঠে কথায় কথায় উচ্চারিত হয়েছে এগিয়ে থাকার পরও হেরে যাওয়ার দুঃখ।

 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ খেলায় জেতার দারুণ একটা সুযোগ হাত ফসকে চলে গেছে। জেতার দুর্দান্ত সুযোগটা শেষ মুহূর্তে অন্ধকারে হারিয়ে গেলেও দেশের ক্রীড়ানুরাগীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বাংলাদেশের দর্শকের জন্য খেলা দেখার সুযোগ ছিল না। টিভির খবরে যতটুকু দেখা গেছে। আর পত্রপত্রিকার খবরে যতটুকু জানা গেছে, তাতেই বাংলাদেশের খেলা প্রিয় মানুষেরা সামসুন নাহার, মনিকা চাকমা, রত্না, মারজিয়া, সানজিদা, মাসুরা, মারিয়া, আঁখিদের প্রশংসা করেছেন।

 

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-২ গোলে হারলেও বাংলাদেশের দর্শক বলছেন এটা হার বলবেন না। এই হার জয়ের চেয়েও বেশি। যারা এমন কথা বলেন এই সব ছোট ছোট মেয়েদের প্রতি তাদের আবেগটা বেশি। কৃষ্ণা, সানজিদাদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকেই আবেগ ঝরে। সেটাই হয়েছে। একটা সময় মেয়েদের ফুটবলের প্রতি আগ্রহ ছিল না দেশের মানুষের। পুরুষ ফুটবল নিয়ে ছিল মাতামাতি। কিন্তু কৃষ্ণাদের প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবল মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

 

থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব—১৬ নারী ফুটবলের গ্রুপ পর্বে প্রথম খেলায় উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াই করে ৯-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। প্রথম খেলা বলে বাংলাদেশের ছোট ছোট মেয়েরা বুঝে উঠতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়ার খেলার ধরন। বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য সবচেয়ে ভালো খবর হচ্ছে তারা সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হারে পর যারা কান্না করেছিল তাই আবার নিজেকে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করিয়ে তিন বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জাপানের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে নেমে ছিল। জাপানকে বড় জয় পেতে দেয়নি খেলোয়াড়রা।

 

গ্রুপের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে কুপোকাত করেও শেষ রক্ষাটা হয়নি। জয়ের বন্দরে পৌঁছানোর আগেই তরি ডুবেছে তীরে। সেই কষ্ট নিয়ে থাইল্যান্ড থেকে গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকায় ফেরা সামসুন নাহার, মনিকা চাকমা, রত্না, মারজিয়া, রাজিয়াদের চোখেমুখে সামান্য কষ্ট থাকলেও বিমানবন্দরের লোকজনদের কাছে বাহবা পেয়েছেন তারা। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের কোনো কষ্ট নেই। তার খেলোয়াড়রা উন্নতি করেছে। এটাই অনেক বড়। ঢাকায় পৌঁছে ছোটন বলেন, ‘মেয়েরা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল এগিয়েছে। আর থাইল্যান্ডে প্রাপ্তি আছে অনেক তিন ম্যাচের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক্সাইটিং ম্যাচ হয়েছে। ১০ জন নিয়ে গোল শোধ করা এবং গোল করে এগিয়ে যাওয়া, সেটা ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ধরে রাখা, কম না। গোলকিপার মাহমুদার ভুলে গোল খেয়েছি। দুঃখ আমরা ইতিহাসটা করতে পারলাম না।’

 

ছোটন বলেন, ‘জাপানের সঙ্গেও ভালো খেলেছি, ছোটখাটো ভুলে হেরেছি। সব সময় আমাদের লক্ষ্য ছিল ভালো খেলা।’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অধিনায়ক কৃষ্ণার লালকার্ড পাওয়া নিয়ে কোচ ছোটন বলেন, ‘কৃষ্ণা ভুল করেছে। ও যখন বল নিয়ে পাল্টা আক্রমণে যাচ্ছিল তখন অস্ট্রেলিয়ান মেয়েটা কৃষ্ণাকে ফাউল করে। কৃষ্ণা যদি মাঠে পড়ে যায় তাহলে আমাদের পক্ষে যেতো। কৃষ্ণা রেফারীর সামনেই হাত ব্যবহার করেছিল।’

 

কৃষ্ণার মাঠে থাকলে অন্যরকম কিছু হতেও পারতো। সেটা বুঝতে পেরে রাতে খেলার পর সরি বলেছে অধিনায়ক কৃষ্ণা রানী সরকার।

 

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াই করে লজ্জায় ডোবায়নি এটাও কম কিসে। কারণ থাইল্যান্ড যাওয়ার আগে তো এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দলের কাছে কোনো প্রত্যাশা ছিল না। সেই তুলনায় ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলো এক সঙ্গে গাঁথলে সহজেই একটা মালা হয়ে যাবে।
Share Button


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

You cannot copy content of this page

You cannot copy content of this page