• বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
যে কারনে ইউরোপের তিন দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলো, রোহিঙ্গাদের খেয়ে ফেলতো খাদ্য উৎপাদন না বাড়লে, কুকুরের সাথে করতো কাড়াকাড়ি: ব্রি’র ডিজি বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী পরিবেশ রক্ষা করেই বাস্তবায়িত হবে ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে শাবনূরের আহ্বান, আইএমও মহাসচিব ঢাকা সফরে আসছেন কাল নিউইয়র্কের রাস্তায় দেশের পতাকা হাতে মৌসুমী মাদক বিরোধী অভিযানে ৪শ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার, আটক ৩ তদবিরের টাকা ফেরত না পেয়ে পিটিয়ে হত্যা করলেন চাচা শ্বশুরকে, ভারতীয় অধিনায়কের স্ত্রীর সংহতি প্রকাশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি  ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এখনই সতর্ক হইতে হইবে

আপডেটঃ : সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

বাংলাদেশকে কুষ্ঠমুক্ত ঘোষণা করা হইয়াছিল ১৯৯৮ সালে। আশা করা হইয়াছিল যে, কুষ্ঠ আর ফিরিয়া আসিবে না। কিন্তু চলতি বত্সরের প্রথম ছয় মাসের পরিসংখ্যান উদ্বিগ্ন করিয়া তুলিয়াছে সংশ্লিষ্ট মহলকে। কারণ এই সময়ে নূতন করিয়া কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হইয়াছেন ১ হাজার ৮৪৪ জন, যাহা গত বত্সরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫০ জন বেশি। শুধু ঢাকাতেই নূতন করিয়া আক্রান্ত হইয়াছেন ৮১৩ জন। আরো উদ্বেগের বিষয় হইল, উপযুক্ত চিকিত্সার অভাবে আক্রান্তদের ১০ ভাগ শারীরিক সক্ষমতা হারাইয়া প্রতিবন্ধিত্বের শিকার হইতেছেন। এই সকল তথ্য সম্প্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হইয়াছে। খবরটি যে ভিত্তিহীন নহে স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক এবং ন্যাশনাল লেপ্রসি ইলুমিনেশন প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. শফিকুল ইসলামও তাহা স্বীকার করিয়াছেন। তিনি নিশ্চিত করিয়াছেন যে, এই বত্সরের প্রথম ছয় মাসে তুলনামূলকভাবে বেশি কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হইয়াছে। সরকারের ন্যাশনাল লেপ্রসি ইলুমিনেশন প্রোগ্রাম-এর চলতি বত্সরের অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে চিকিত্সাধীন আছে এমন কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা ৩ সহস্রাধিক। তন্মধ্যে রংপুর ও ঢাকা বিভাগেই রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক। অতএব, বিষয়টি বিশেষ মনোযোগের দাবি রাখে বলিয়া সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

 

প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন যে, ১৬ কোটি মানুষের দেশে তিন-চার হাজার কুষ্ঠরোগী এমন কিছু নহে। কিন্তু উদ্বেগের কারণ নিহিত রহিয়াছে অন্যত্র। প্রথমত, রোগটি ছোঁয়াচে। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক-মুখ দিয়া নির্গত সর্দি এবং স্পর্শের মাধ্যমেও কুষ্ঠরোগ ছড়াইতে পারে। জনবহুলতা ও দারিদ্র্যের কারণে আমাদের দেশের পরিবেশও রোগটি দ্রুত বিস্তারের অনুকূলই বলিতে হইবে। সম্প্রতি রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি সেই আশঙ্কাকেই সমর্থন করে। দ্বিতীয়ত, চিকিত্সা ব্যবস্থাও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, কুষ্ঠরোগের চিকিত্সায় সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলাইয়া হাসপাতাল আছে মাত্র ৫টি। সরকারি তিনটি হাসপাতালের অবস্থান ঢাকা, নীলফামারী ও সিলেটে। অন্যদিকে ‘লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল’ পরিচালিত বেসরকারি দুইটি হাসপাতালের একটি নীলফামারীতে, অন্যটি চন্দ্রঘোনায়। দেশের আর কোথাও কুষ্ঠরোগের যথাযথ চিকিত্সা-উপযোগী প্রতিষ্ঠান নাই বলিলেই চলে। তৃণমূল পর্যায়ের চিকিত্সকদের কুষ্ঠরোগ নির্ণয় ও চিকিত্সা বিষয়ে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও স্বচ্ছ ধারণার অভাব রহিয়াছে বলিয়া অভিযোগ রহিয়াছে। ফলে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের কুষ্ঠ আক্রান্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে যথা সময়ে যথোপযুক্ত চিকিত্সা গ্রহণ সম্ভব হয় না অনেক ক্ষেত্রে।

 

অতএব, এখনই সতর্ক হইতে হইবে। কুষ্ঠরোগ নিয়ন্ত্রণে গ্রহণ করিতে হইবে যথাযথ পদক্ষেপ। একজন কুষ্ঠরোগীও যেন চিকিত্সার বাহিরে না থাকে, তাহা নিশ্চিত করিতে হইবে। মনে রাখিতে হইবে যে, বেশিরভাগ কুষ্ঠরোগী দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। ফলে তাহারা নিয়মিত হাসপাতালে যাইতে পারেন না। আবার সামাজিক কারণে বহু কুষ্ঠরোগী নিজেকে লুকাইয়া রাখেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ চিকিত্সকরাও বীভত্স ঘা ও দুর্গন্ধের কারণে কুষ্ঠরোগীদের চিকিত্সা এড়াইয়া চলেন। তবে দুই দশক আগে দেশকে কুষ্ঠমুক্ত করিবার অভিজ্ঞতা যাহাদের আছে, তাহারা যে এই চ্যালেঞ্জও সফলভাবে মোকাবিলা করিতে পারিবেন তাহাতে সন্দেহ নাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ