মোকাম্মেল হোসেন জোনায়েদ ॥
ভোলার পরানগঞ্জে হতদরিদ্র বিধবা মহিলা আচিয়া কে ভিটেমাটি ছাড়া করার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে । স্থানীয় বারেক গং একের পর এক হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছে অসহায় পরিবারটিকে । মামলা ভুয়া ও ভিত্তিহিন হওয়ার কারনে মহামান্য আদালত ইতিপূবে একাধিক মামলা খারিজ করলেও বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে । মামলার বোঝা বইতে বইতে নিঃশ হয়ে পরছে হত দরিদ্র পরিবারটি ।
সদর উপজেলার ২নং ইলিশা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের পরানগঞ্জ বাজার এলাকার গুপ্তমুন্সি গ্রামের ওহাব মৌলভির বাড়ি এলাকার মৃত জামাল মাতাব্বরের বিধবা স্ত্রী আচিয়া বেগম । স্বামী জামালের জীবিত থাকাকালিন সময় থেকেই কয়েক যুগধরে বসবাস করছেন বর্তমান ভোগ দখলিয় বাড়িতে । গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে স্থানিয় মাতাব্বর বাড়ির বারেক মাতাব্বর ছেলে আবদুস সাত্তার ও তার জামাই আজাদের নেতৃত্বে পুলিশ সহ কয়েকজন এসে আচিয়ার জমিতে প্রবেশ করে । আচিয়া তার জমিতে ঘর র্নিমান করলে সাত্তার ও আজাদ বাধা দেয় । আচিয়া বাধা দেওয়ার কারন জিগেস্বা পুলিশের সামনেই সাত্তার উত্তেজিত হয়ে আচিয়াকে মারধর ও শ্লিলতা হানির চেষ্টা করে। পরে স্থানিয়রা বাধা দিলে সাত্তার ও তার সহোযোগিরা চলে যায় । এদিকে মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে অজ্ঞাত কয়েকজন এসে আচিয়ার ঘরে হামলা চালাতে চেষ্টা করলে আচিয়ার অন্তসত্বা মেয়ে ঘর থেকে বের হলে সন্তাসিরা তাকে জোর পূর্বক র্ধষনের চেষ্টা চালায় । পরে ভিকটিমের চিৎকারে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে সন্তাসিরা পালিয়ে যায় ্
স্থানীয়রা জানায় আচিয়ার স্বামী মৃত জামাল তার পিতা সেকান্তর আলি মাতাব্বর থেকে ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে কয়েক যুগ ধরে বসবাস করে আসছিল । জামালের পিতা সেকান্তর মাতাব্বর একই এলাকার মুজাহার মাতাব্বরের কাছ থেকে এই জমি ক্রয় করে । পৌতৃক সুত্রে পাপ্ত জমিতে জামাল দীর্ঘদিন বসবাস করে আসলেও ২০০১ সালের দিকে মুজহার মাতাব্বরের ওয়ারিশ বারেক মাতাব্বর জামালের বসতবাড়ি ও ভোগ দখলিয় জমির মালিকানা জামালের বিরুদ্ধে ভোলা জজ আদালতে ১টি দেওয়ানি মামলা করে । দীর্ঘদিন মামলা চলার পর ২০১১ সালে আদালত মামলাটি খারিজ করে ও জমির বৈধ মালিক হিসেবে জামাল কে উল্লোখ করে। মামলা রায়ের আগেই জামাল মারা যায় । জামালের মৃত্যুর কারনে জামালের স্ত্রী আচিয়া ও তার ৫ মেয়ে জমির বৈধ মালিক হয় । আদালত মৃত জামালের পরিবারের পক্ষে রায় দিলে জামালনের পরিবার জমির মালিকানা পায় । মামলায় হেরে বারেক আরালে থেকে তার বোন মনোয়ারা ও ছেলে ছাত্তার কে দিয়ে মামলা কয়েকটি দেয় । মনোয়ারা বাদি হয়ে ২০১২ সালে আচিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে আদালত ২০১৫ সালের দিকে মনোয়ারার মামলাটি খারিজ করে দেয় । এর পরেও বারেক গং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মামলা দিয়ে আচিয়া পরিবার কে হয়রানি করে আসছে । কয়েক বছওে আদালতে দেওয়ানী , ল্যান্ডর্সাভে সহ বিভিন্ন মামলা দিয়েছে । গত ২/৪/২৮ তারিখে বারেকের ছেলে সাত্তার বাদি হয়ে জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করেছে বলে একটি মামলা দ্বায়ের করে । মামলায় আচিয়া , মেয়ে কহিনুর , আয়শানুর , ফাহিমা ও মুক্তাকে আসামি করে । এদের মধ্যে আচিয়ার ৩ মেয়ে আয়শা শেরপুর , ফাহিমা কুষ্টিয়া ও মুক্তা গাইবান্দা জেলায় বৈবাহিক সুত্রে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করে । যাদের ভোলায় না থাকার কারনে কোন রকম ভাবে উল্লোখিত ঘটনার সাথে জরিত সম্ভব না । তাদের কে সুধুমাত্র হয়রানির উদ্যেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন ।
মামলার ভুক্তভুগি আচিয়া জানান , তার স্বামীর জমিতে তিনি বসবাস করছেন । স্বামীর জিবিত থাকা কলিন সময় থেকেই বাবেক গংদের সাথে তাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল । তারা কয়েকবার আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করছিল । কিন্তু কয়েকটি মামলায় হেরে যায় । এর পরেও আবার মামলা করেন । মামলা চালাতে চালাতে একেরারে নি:স হয়ে গেছি । বিধিবা আচিয়া বারেক গংদের হাত থেকে বাচার জন্য প্রশাসন সহ উদ্ধতন কতৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন ।