বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, মাদক ব্যবসায়ী নিধনের নামে অনেক নিরীহ মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। সরাসরি গুলি করে হত্যা করে বলা হচ্ছে বন্দুকযুদ্ধের আজগুবী গল্প। একরামের হত্যা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। আমাদের বহু নিরীহ নেতা-কর্মীকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হতে হবে। দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে এ ধরণের আইনবহির্ভূত হত্যা হতে পারে না। গণতান্ত্রিক সমাজে এ ধরণের হত্যা অমানবিক।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র : শহীদ জিয়া এবং আজকের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই আলোচনাসভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম-৭১ নামের একটি সংগঠন। ঢালী আমিনুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।
নোমান বলেন, আমরা আন্দোলন বেগবান করবো। আন্দোলন বেগবান করলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। কোনো আলোচনা-গোলটেবিল বৈঠক খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করবে না। খালেদা জিয়াকে বন্দি করে সরকার নির্বাচনে জয়যুক্ত হতে চায়। খালেদা জিয়াকে তারা বড় বেশি ভয় পায়। একারণে খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে নির্বাচন করতে চাচ্ছে সরকার। আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
নোমান বলেন, মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে দেশের সব মানুষ আছে। যারা মাদক ব্যবসা করে তারা ছাড়া সবাই এর বিরুদ্ধে। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক উদ্দেশে মাদক ব্যবসায়ীদের নিধন চলছে এটা সভ্য সমাজে কাম্য হতে পারে না। এসব বিষয়ে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ অথবা সম পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করতে হবে। যারা নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছে তাদের বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে এখন একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চলছে। সংবিধান থেকে মৌলিক কিছু বিষয় বাদ দেয়া হয়েছে। আমরা মনে করি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে যে নির্বাচন হয়েছিল সেগুলো মন্দের ভাল ছিল। কাজেই আজকে দেশে নির্বাচন করতে হলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি ষড়যন্ত্রের নির্বাচন করতে চান, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ এবার অতীতের আন্দোলনের মতো ঠেকিয়ে দেবে।
নোমান বলেন, আমি মনে করি গণতান্ত্রিক আন্দোলন সব সময় জয়লাভ করেছে। আর যারা অস্ত্র নিয়ে রাজনীতি করেছে তাদের সেই শক্তি কোনো না কোনো সময় পরাজিত হয়েছে। যেমন আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, এরশাদ পরাজিত হয়েছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, টাকা ছিল, গুণ্ডা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা জনতার হাতে নিগৃহীত হয়ে পালিয়েছে। আজকে অনেকে মনে করেন এই আন্দোলন সফল হবে কি না। তাদের তো জেল খানা আছে। তাদের অস্ত্র, গুণ্ডা বাহিনী আছে, অর্থ আছে। কিন্তু এই অস্ত্র-অর্থ-গুণ্ডা কোনোটা কাজে আসে না, যখন জনতার স্রোত নেমে আসে। কাজেই এখন আওয়ামী লীগ যত অস্ত্র ব্যবহার করুক, যতই মাদকের নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা করুক, আমাদের কারাগারে নিয়ে যাক, তাতে আওয়ামী লীগ রক্ষা পাবে না। কারণ নিজেদের কর্মকাণ্ড তাদের যে পথে নিয়ে যাচ্ছে এই পথ থেকে তারা ফিরতে পারবে না।