বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজধানীসহ সারাদেশেই চলছে মামলার ছড়াছড়ি, গ্রেপ্তার ও আসামি করার হিড়িক। এমনকি যেসব বিএনপি নেতা দেশে নেই বা অনেকে হজ পালন করতে মক্কায় অবস্থান করছেন, তাদের নামেও মামলা দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার অজানা আশঙ্কায় বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে কারাগার ভরে ফেলেছে। সারা দেশে কোনো ঘটনা না ঘটলেও বিভিন্ন থানায় অগ্রিম মামলা করে রেখেছে পুলিশ। এসব মামলায় হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে রাখা হয়েছে। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় সরকারবিরোধী দলের বিরুদ্ধে বিনাকারণে দমননীতির অংশ হিসেবে মামলা দায়ের ও সে মামলায় গ্রেপ্তার করে।
বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ৭১ এর ২৫ শে মার্চ ইয়াহিয়া খানের অপারেশন সার্চলাইটের মতো আওয়ামী সরকারের বাহিনীরা দেশজুড়ে চালাচ্ছে জনগণের ওপর অন্যায় আগ্রাসন। গত ৫-৬ দিনে গ্রেফতার এখন অর্ধ সহস্রের কাছাকাছি। বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার সম্পূর্ণ অধঃপতিত ও গণবিরোধী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে আবারও ভোটারবিহীন একতরফা করা যায় সেজন্য বিনা কারণে নানাধরণের হিংসা প্রতিহিংসায় মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে, নানাভাবে উস্কানিমূলক বক্তব্য ও পুলিশি শক্তির যথেচ্ছ ব্যবহারে রাজনৈতিক পরিবেশ সংঘাতময় করার চেষ্টা করছে। সরকার মনে করে, তার বিরুদ্ধে যাতে কোনো দিক থেকে কোনোভাবেই কেউ যেন টুঁ শব্দ না করতে পারে, সে জন্যই পুলিশ গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলায় সয়লাব করে দিয়েছে সারা দেশকে। সরকার দিয়ে মামলা-হামলা গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বেআইনিভাবে ক্ষমতায় চিরকালীন থাকাটা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে।
রিজভী বলেন, নজিরিবিহীন ও বেআইনিভাবে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কারাগারে আদালত বসিয়ে সরকারের আক্রোশের সর্বশেষ খেলায় মেতে উঠেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ তাঁকে চিকিৎসা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। সরকারি ও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিসৎসকরাা তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার যে পরামর্শ দিয়েছেন তা বার বার অগ্রাহ্য করেছে সরকার। বেগম জিয়াকে মিথ্যা সাজানো মামলায় জড়িয়ে দিয়ে নিয়ে আদালতকে ব্যবহার করে সাজা দিয়েও মনের ঝাল মিটছে না। নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করে আবারও গোপন বিচার প্রক্রিয়ায় তাঁকে হয়রানি করতে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, এমরান সালেহ প্রিন্স, এবিএম মোশররফ হোসেন প্রমুখ।
Share Button