নির্বাচনকালীন সরকারের দুটি রূপরেখার খসড়া প্রস্তুত করেছে বিএনপি। অচিরেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। মতামত নেয়ার জন্য ইতিমধ্যে রূপরেখার একটি খসড়া জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের হাতে দিয়েছে বিএনপি। তিনি এটার ওপর মতামত দিলেই চূড়ান্ত করা হবে। ড. কামাল জানান, প্রস্তাবের একটি কপি তিনি পেয়েছেন তবে তিনি এখনো তা পড়ে দেখেননি। তিনি দেখে মতামত দিবেন। তিনি আরো বলেন, সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বর্তমান দলীয় সরকারের অধীনে এই সংসদ কার্যকর রেখে  কোনোভাবেই সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে পারে না। সেটা সম্ভব নয়। নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। সংবিধানের মধ্যে থেকেই নিরপেক্ষ সরকার গঠন সম্ভব। নির্বাচনকালীন সরকার কি রকম হওয়া উচিত—তা নিয়ে আমাদের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। শিগগিরই রূপরেখা দেয়া হবে। রাষ্ট্রপতিকে আমরা রূপরেখা দিব। সেখানে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে কে থাকবেন তা থাকবে।
জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখাটি জাতীয় ঐক্যের ব্যানারে, নাকি বিএনপি এককভাবে ঘোষণা করবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে দলের সংশি­ষ্ট একাধিক নেতা জানান, ড. কামাল হোসেন, যুক্তফ্রন্ট সভাপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ চলমান ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ ও মতামত নিয়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার এর রূপরেখা প্রকাশ করা হবে।
রূপরেখার খসড়ায় দাবি করা হয়েছে— বর্তমান সংবিধানের ভেতরেই নির্দলীয়-নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ রয়েছে। সংবিধান মেনেই রাষ্ট্রপতি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং তার সঙ্গে পরামর্শক্রমে ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে পারবেন। আর কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে সংবিধান সংশোধন করেও নির্দলীয় ব্যক্তিদের অধীনে নির্বাচনের সুযোগ  তৈরি করা যায়।
বিএনপির রূপরেখায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ফরমুলাকে। এতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন।
এছাড়া সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনেরও প্রস্তাব রয়েছে। সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার’ নামে একটি নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার প্রবর্তন করতে পারে এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংশোধিত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সংবিধানের এ সংশোধনী সুপ্রিমকোর্টের রায়ের চেতনার প্রতিপালন হিসাবেও বিবেচিত হবে।
জানা গেছে, উভয় খসড়া নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা কয়েকদফা বৈঠক করেছেন। রূপরেখার খসড়ায় নির্বাচনকালীন ওই সরকারকে ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার’ বলে উলে­খ করেছে বিএনপি। তারা বলছে, এটা কার্যকর করার জন্য প্রথমেই রাজনৈতিক সমঝোতা তা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করা হবে। তবে আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে, সংবিধানের বাইরে অন্য কোনো অসাংবিধানিক সরকার তারা মানবে না।
Share Button