বরগুনা জেলা প্রতিনিধি : বরগুনার পায়রা নদীতে ধরা পড়েছে পিঠে স্যাটেলাইট ট্রাকার লাগানো একটি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ।

রবিবার (০৬ মার্চ) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বরগুনা জেলা বন বিভাগ।

বন বিভাগ জানায়, শনিবার (০৫ মার্চ) বিকেলে বরগুনা সদর উপজেলার পায়রা নদী সংলগ্ন বাসুকি গ্রামের জেলে মাসুমের জালে আটকা পড়ে স্যাটেলাইট ট্রাকার লাগানো এ কচ্ছপটি।

জেলে মাসুম বলেন, নদীতে ফেলা আমার পোনা মাছের জাল তুলতে গিয়ে বিকেলে কচ্ছপটি ধরা পড়ে। এর আগে এতবড় কচ্ছপ আমি দেখিনি। আর কচ্ছপের পিঠে লাগানো যন্ত্র সম্পর্কেও কোন ধারণা নেই। তাই সাবেক ইউপি সদস্য খোকন মিয়াকে খবর দেই।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য খোকন মিয়া বলেন, এমন কচ্ছপ আগে দেখিনি। বিকেলে জেলে মাসুমের জালে বিরল প্রজাতির এই কচ্ছপটি ধরা পড়ে। খবর পেয়ে আমি গিয়ে কচ্ছপটি উদ্ধার করে বন বিভাগে খবর দেই। পরে সন্ধ্যায় তারা এসে কচ্ছপটি নিয়ে গেছে।

বরগুনা বন বিভাগের সহকারী বিট কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন খান জানান, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটির ওজন প্রায় ১২ কেজি। ধারণা করা হচ্ছে এটির বয়স প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর।

বরগুনা বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটি বিরল প্রজাতির বাটাগুর বাসকা প্রজাতির। কচ্ছপটির পিঠে লাগানো স্যাটেলাইট ট্রাকার সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। এটি উপকূলীয় বনবিভাগ খুলনার পূর্ব সুন্দরবনে প্রেরণ করা হবে।

বরগুনা সদর উপজেলার চালিতাতলীর পায়রা নদীতে জিপিএস ট্র্যাকারসহ বৃহদাকৃতির একটি কচ্ছপ স্থানীয় জেলেদের জালে আটকা পড়ে।

পরে জেলেদের নিকট থেকে কচ্ছপটি উদ্ধার করে বন বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের অফিসে রেখেছেন।

এক সূত্রে জানা গেছে, বাটাগুড় বাসকা বা পোড়া কাঠা নামক এক বিশেষ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপের গতি প্রকৃতির উপর নজরদারি চালাতে দশটি কচ্ছপের শরীরেই জিপিএস ট্রান্সমিটার বসানো হয়েছে। এরফলে বিলুপ্ত প্রায় এই প্রজাতির কচ্ছপ সম্পর্কে আরও অনেক তথ্য জানা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাঘের পর এবার কচ্ছপের শরীরেও জিপিএস ট্রান্সমিটার যন্ত্র ব্যবহার করা হল সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পে। বাটাগুড় বাসকা বা পোড়া কাঠা নামক এক বিশেষ ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপের শরীরে এই রেডিও ট্রান্সমিটার বসিয়ে বুধবার সুন্দরবনের নদী, খাঁড়িতে ছাড়া হল। এই বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপের গতিবিধি, বংশ বিস্তার এবং পরিবেশের সঙ্গে কীভাবে এরা সামঞ্জস্য রক্ষা করছে সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতেই এদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প।

একসময় সুন্দরবন থেকে শুরু করে মায়নমার, থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া উপকূল পর্যন্ত এই বিশেষ ধরনের কচ্ছপের বসতি ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই প্রজাতির কচ্ছপ বিলুপ্ত হয়ে যেতে বসেছে। বেশ কিছু বছর আগে, আনুমানিক ১৯৯৫-৯৬ সালে বন দফতরের পক্ষ থেকে সমুদ্রতীরে অলিভ রিডলে বা সামুদ্রিক কাঠা প্রজাতির কচ্ছপের ডিম সংগ্রহ করে তা ফোটানো হয়। কিন্তু সেই নবজাতক কচ্ছপগুলির মধ্যে বাটাগুড় বাসকা প্রজাতির কচ্ছপের সন্ধান পায় বন দফতর। সেই থেকেই এই বাটাগুড় বাসকা প্রজাতির কচ্ছপের সংরক্ষণ শুরু করে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প। সুন্দরবনের সজনেখালিতে আলাদা একটি পুকুর তৈরি করে সেখানেই বেশ কিছু বছর ধরে এই কচ্ছপ সংরক্ষণ ও তার প্রজনন করে চলেছে ব্যাঘ্র প্রকল্প।

 

Share Button