• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আনারকন্যা ডরিনকে হুমকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-রংপুর-রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন চট্টগ্রাম ও রংপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন, সংঘর্ষে নিহত ৪ কোটা আন্দোলনকারীদের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধন রয়েছে: কাদের মহাখালীতে রেললাইন অবরোধকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ জনদুর্ভোগ, ধ্বংস বা রক্তপাত ঘটালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি দায়িত্ব পালন করবে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার বেইলি রোড অবরোধ করলো ভিকারুননিসার ছাত্রীরা বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪ কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল ঢাকা রাজসিক আয়োজনে এমবাপ্পেকে বরণ করতে প্রস্তুত বার্নাব্যু

যৌথ প্রযোজনার প্রস্তাবিত নীতিমালার ভালো-মন্দ

আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

সম্প্রতি তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত যৌথ প্রযোজনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের খসড়া নীতিমালার ভালো-মন্দ দিক নিয়ে চলচ্চিত্রাঙ্গনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ কেউ বলছেন, নীতিমালাটি যুগোপযোগী হয়েছে। আবার কেউ বলছেন, এ নীতিমালায় ছবি নির্মাণ করা দুরূহ। পর্যালোচনায় দেখা গেছে খসড়া নীতিমালায় ভালোর পাশাপাশি মন্দ কিছু দিকও রয়েছে। সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হল।

যা কিছু ভালো….

* এই নীতিমালা আগের ৩ নীতিমালার (১৯৮৪, ১৯৮৬, ২০১২) চেয়ে সুগঠিত, দূরদর্শী ও বাস্তবানুগ; যা যৌথ প্রযোজনার বিরাজমান সংকটে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

* এ নীতিমালায় শিল্পী (মুখ্য শিল্পীসহ), কলাকুশলী ও লোকেশনের সমানুপাতিক ধোঁয়াশা কম। শিল্পী, কলাকুশলী ও কারিগরি কর্মীর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা না থাকলেও, চলনসই একটা ব্যাখ্যা আছে। নকল ছবি রোধ, যৌথ প্রযোজনার নীতি/শর্ত না মানার ফল, ছবির প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ অস্তিত্ব ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনেকটা সুস্পষ্ট, যা আগের নীতিমালাগুলোতে ছিল না।

* যৌথ প্রযোজনার ছবির নির্মাণের অনুমতির জন্য আগে আবেদনপত্রের সঙ্গে চুক্তি, চিত্রনাট্য, দেশের নামসহ শিল্পী তালিকা দিলেই চলত। নতুন নীতিমালায়, এ সবের সঙ্গে ছবির নির্মাণ পরিকল্পনা, লোকেশন বর্ণনা, প্রি-পোডাকশন ও পোস্ট-প্রডাকশন কার্যক্রমের সিডিউলসহ শুটিং সিডিউল, বিস্তারিত বাজেট, বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পী-কলাকুশলীর এনআইডি/পাসপোর্ট, সম্মতিপত্র সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। এ নিঃসন্দেহে গঠনমূলক, প্রয়োজনীয় ও সময়ানুগ সংযোজন।

* আপিলের বিধান, বাছাই (প্রিভিউ) কমিটি ও আপিল কমিটির সভায় প্রয়োজনে ছবির প্রযোজক বা তার প্রতিনিধির বক্তব্য প্রদানের সুযোগ অবশ্যই অনন্য সংযুক্তি।

যা কিছু মন্দ

ষ নতুন নীতিমালার প্রায় অর্ধাংশই ২০১২ সালের নীতিমালার পুনরাবৃত্তি; যা অপ্রত্যাশিত ও দৃষ্টিকটু।

* এ নীতিমালা প্রচণ্ড আমলাতান্ত্রিকতা ও দীর্ঘসূত্রতা দুষ্ট। যেমন- নির্মাণের আগে ছবির প্রস্তাব বিষয়ে বাছাই কমিটির অনুমোদন, এফডিসির মতামত, তারপর অতিরিক্ত সচিবের অনুমোদন, অংশগ্রহণকারী অন্য রাষ্ট্রের যৌথ প্রযোজনার অনুমতি/ছাড়পত্র এবং বাছাই কমিটির সুপারিশে এফডিসির চিত্রায়ণের অনুমোদন, তারপর আবার এফডিসির কাছ থেকে শুটিংয়ের অনুমোদন, নির্মাণের পরে ফের বাছাই কমিটির অনুমোদন। ওদিকে আবার বিদেশি নির্মাতাদের ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি আনা-নেয়ায় আনুষ্ঠানিকতার হাঙ্গামা। অর্থাৎ পদে পদে লাল ফিতার দৌরাত্ম্য! আশ্চর্যের বিষয় হল, নীতিমালার কোথাও অনুমোদন প্রক্রিয়াগুলো সমাপন বা আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা উল্লেখ নেই। সে এক অনিশ্চিত পথে সুনিশ্চিত যাত্রা! এই জটিল ও দীর্ঘসূত্রি প্রক্রিয়া যৌথ প্রযোজনাকে নিশ্চিতভাবে নিরুৎসাহিত করবে। এ ছবির ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলবে।

* সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় মুখ্য অভিনয় শিল্পী, কলাকুশলী ও মুখ্য কারিগরি শিল্পীর সমানুপাত নিয়ে আবারও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

* গান ও গানের মানুষের বিষয়টিও অপরিষ্কার। গানের মানুষগুলোর তালিকা আছে বটে। চাইলে এ নীতিমালা মেনে গানে ভিন দেশের রাজত্বের সুযোগ আছে।

* পরিচালক হচ্ছেন, জাহাজের ক্যাপ্টেন। এ বিষয়ে বলা হচ্ছে, ‘যৌথ চলচ্চিত্র পরিচালক নিয়োজনকে উৎসাহিত করা হবে’। অর্থাৎ এখানে সব দেশের প্রতিনিধিত্ব বাধ্যতামূলক নয়। এটা এক অর্থে বাস্তবানুগ। অন্য অর্থে, বিদেশি পরিচালকদের প্রাধান্য বিস্তারে বা একচেটিয়া রাজত্বে সহায়ক।

* ২০১২ সালের নীতিমালার মতো নতুন নীতিমালায়ও বলা হয়েছে, যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে আবহমান বাংলা, বাঙালি সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সুষ্ঠু প্রতিফলন থাকবে। দেশের ও জনগণের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শৈল্পিক ভাবনা গড়ে তোলার চেষ্টা থাকবে। তাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়, এমন কিছু থাকবে না। চিত্রনাট্য জাতীয় স্বার্থ, সংহতি ও সংস্কৃতিবান্ধব হবে। ‘জাতীয় স্বার্থ’, ‘শৈল্পিক ভাবমূর্তি, ‘দেশীয় সংস্কৃতি’- এসব খুব আপেক্ষিক ও বিস্তৃত বিষয়। এ নীতিমালায়ও এসব বিমূর্ত ও অস্পষ্ট বিষয়ের কোনো ব্যাখ্যা বা রূপরেখা নেই।

* ২০১২ সালের নীতিমালার মতো এ নীতিমালায়ও নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, অশ্লীলতা বা অপরাধসংক্রান্ত বিষয়গুলোর কোনো সুনির্দিষ্টতা নেই।

* তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের হাতে যৌথ প্রযোজনার ছবির চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষমতা। আবার ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলে, একই ব্যক্তি থাকছেন আপিল কমিটিতে। বিষয়টি সাংঘর্ষিক ও স্ববিরোধী।

যা থাকলে ভালো হতো…

* একই পরিচালক-প্রযোজক বছরে কয়টি যৌথ প্রযোজনার ছবি করতে পারবে, তা বলা নেই। দেশীয় চলচ্চিত্রের স্বার্থে, সংখ্যাটি নির্দিষ্ট ও সীমিত করা যেত। যেমন- ১৯৮৬ সালের নীতিমালায় একটা নিয়ম ছিল, প্রতি বছর আগের বছর মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির মোট সংখ্যার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ছবি যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণের অনুমতি দেয়া হবে। এক পরিচালক-প্রযোজক বছরে সর্বোচ্চ ১টি ছবির অনুমতি পাবেন।

* সমানুপাতিকের বিধান মেনে যৌথ প্রযোজনার ছবি গল্প কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে নীতিমালায় কোনো রূপরেখা নেই। চীনের যৌথ প্রযোজনার একটা নিয়ম হচ্ছে, কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ গল্পের স্থান-কাল চীনে হতে হবে। আমাদের নীতিমালায় এমন বিধান থাকতে পারত।

* নতুন নীতিমালার পরিবেশনায় নাম্বারিং ও বুলেটিংটা আরও সরল হলে সুখপাঠ্য হতো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ