• বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

উত্তপ্ত রংপুর॥আওয়ামী লীগের সাইন বোর্ড লাগিয়ে মার্কেট দখলের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন

আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

রংপুর অফিস॥
উত্তপ্ত রংপুর। আওয়ামী লীগের সাইন বোর্ড লাগিয়ে রংপুর সরকার মার্কেট দখলের চেষ্টার ঘটনায় ব্যবসায়ীদের ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম শেষ। সমস্যা সমাধান না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বৃহস্পতিবার ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে।
জেলা প্রশাসক কর্তৃক অবৈধভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লীজ দেয়ার প্রতিবাদে রংপুর জুয়েলার্স সমিতি, দেওয়ানবাড়ি রোড ব্যবসায়ী সমিতি, ক্রোকারিজ সমিতি, স্যানেটারী সমিতিসহ অন্যান্যরা তাদের প্রতিষ্ঠানের সামনে স্ব স্ব ব্যানার নিয়ে দেওয়ানবাড়ি থেকে শুরু করে বেতপট্টি জাহাজ কোম্পানী মোড় পর্যন্ত মানববন্ধন করেছে। এ সময় শত শত ব্যবসায়ী নীরব ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রশাসন ও মহানগর আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। সরকার প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী কামরুজ্জামান বলেন, নিজস্ব কেনা জমিতে নির্মিত এই মার্কেটের দ্বিতীয়-তৃতীয় তলায় সিড়ি গেটে তালা লাগিয়ে দিয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা তুষার কান্তি মন্ডল। মার্কেটের আইএফআইসি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাড়া তাদেরকে দেয়ার জন্য চাপসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফলে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনের রুপ নিলে মহানগর আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা তাদের হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়,
রংপুর নগরীর ব্যস্ততম সড়ক বেতপট্টি এলাকায় নিজস্ব ক্রয়কৃত ২টি দাগের ৯ শতক জমির উপর বহুতল মার্কেট গড়ে তুলেন আব্দুল মান্নান। সেই সাথে পাশের একটি দাগের সাড়ে ৪ শতক অর্পিত জমি ১৯৭২ সাল থেকে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একসনা লীজ নিয়ে টিনের চালা দিয়ে ঘর তুলে ৪ যুগ ধরে ব্যবসা করে আসছেনু। ২০০৪ সাল পর্যন্ত তারা ওই জমির বাৎসরিক লীজ মানি জমা দেন। সেই সময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তার ভূলে ওই দাগের ৯ শতক জমি অর্পিত লেখা হয়। এ বিষয়টি জমির মালিকের দৃষ্টি গোচর হলে তিনি প্রশাসন পূর্বের কাগজ দেখিয়ে বলেন ক্রয়কৃত সাড়ে ৪ শতক ও  লীজকৃত জমি সাড়ে ৪ শতক। এ সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিষয়টি ভূল স্বীকার করে দিক নির্দেশনার জন্য মন্ত্রণালয়ে কাগজ পাঠান। দীর্ঘ সময় ধরে দিক নির্দেশনা না আসায় ওই জমির লীজ নবায়ন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে দিক নির্দেশনা এলে ক্রয়কৃত জমির খাজনা দিলেও লীজকৃত জমির লীজ মানি প্রশাসন গ্রহণ করে না। এরই মধ্যে ২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর লীজ বাতিলের নোটিশ প্রদান করে প্রশাসন। ওই নোটিশে বলা হয় ১৯৯০ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে লীজ মানি বকেয়া রয়েছে। এ  সময় লীজ গ্রহীতা প্রশাসনকে তাদের কাগজপত্র দেখালেও এর কোন ফল হয়নি। ফলে তারা এ আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করলে আদালত ওই জমির উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির আদেশ দেন। এরপরও জেলা প্রশাসন ওই ব্যবসা ঘরে তালা লাগিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডলের নামে লীজ দেয়। তারা সেখানে মহানগর আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙ্গিয়ে কার্যালয় বানায়। এরপর আওয়ামী লীগ নেতা সাফিয়ার ও তুষার ক্ষমতার অপব্যবহার করে পুরো মার্কেটের নিচ তলায় সিড়ি ঘরে তালা লাগিয়ে বলে এ মার্কেট আমাদের এবং এখন থেকে এ মার্কেটের ব্যাংক ভাড়া আমরা নেব। এতে দিশেহারা হয়ে পড়ে মার্কেটের প্রকৃত মালিক কামরুজ্জামানসহ তার অংশীদাররা। বিষয়টি ব্যবসায়ীদের মধ্যে জানাজানি হলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রথমে দলের সাইনবোর্ড লাগিয়ে এখন মার্কেট দখলের পায়তারা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ নেতারা। যা বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ