• সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহক ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩৭ লাখ মানুষ, বিধ্বস্ত ৩৫ হাজার ঘরবাড়ি’ রাজধানীতে প্রাইভেটকারের ওপর ভেঙে পড়ল গাছ তারেক রহমানের আগে আপনার বিচার হয়ে যায় কিনা তার জন্য প্রস্তুত থাকেন: রিজভী ঘূর্ণিঝড়ে ভোলায় ২ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, নিহত ৩ আবহাওয়া ভালো হলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী ‘সানভীস বাই তনি’ শোরুম সিলগালা কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টে রুল স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকবে না: সৌদি আরব চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে কোমর পানি, দুর্ভোগে নগরবাসী ১৯ উপজেলার ভোট স্থগিত

গ্রামীণ আবাসনের ৮০ ভাগই নিম্নমানের

আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

দেশের শতকরা ৭২ ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন। আর দেশের মোট গৃহের ৮১ ভাগ গ্রামে অবস্থিত। তবে গ্রামের এসব গৃহের ৮০ ভাগই নিম্নমানের কাঠামো। এদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে যত্রতত্র বাড়িঘর নির্মাণ করায় প্রতিদিন প্রায় ২৩৫ হেক্টর কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের কৃষি জমি কমছে জ্যামেতিক হারে। কৃষি জমিতে গড়ে উঠছে নতুন নতুন ঘরবাড়ি। এভাবে কৃষি জমি কমলে আমাদের অদূর ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে কৃষি জমিতে গড়ে ওঠা ঘরবাড়িগুলোকে একটা পরিকল্পনার মধ্যে নিয়ে আনার কথা বলছেন তারা।

 

গ্রামের ঘরবাড়ি নিম্নমানের কাঠামো হলেও শহরের দরিদ্ররা আবাসনের দিক থেকে বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা জমি। আর দুষ্প্রাপ্য এসব জমির দামও আকাশছোঁয়া। ফলে জমির উপর কোন ধরনের অধিকার স্থাপন করতে পারেনা দরিদ্র শহরবাসী। আর মধ্যবিত্তদের জন্যও আবাসন বড় সমস্যা। যারা চাকুরি করেন ভাড়া বাড়িতে থাকতে তাদের চাকরির এক তৃতীয়াংশই ব্যয় হয়ে যায়।

 

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রথম সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমানে সারা দেশে পরিবেশবান্ধব মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা বিস্তার লাভ করছে। আবাসন সমস্যা সমাধানে বেসরকারি উদ্যোক্তারা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন, আগে আবাসন খাত নিয়ে কেবল উচ্চবিত্তের কথা ভাবা হতো। এখন রিহ্যাবের উদ্যোক্তারা সীমিত সামর্থের মানুষসহ সব ধরনের ক্রেতার জন্য ফ্ল্যাট তৈরি করছেন। তিনি বলেন স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। অপরদিকে ঢাকার আশপাশে রিহ্যাব, রাজউক এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, জেলা বা উপজেলায় সরকারি খাস বা পতিত জমিতে রিহ্যাব সদস্যদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে হাইরাইজ বিল্ডিং তৈরি করা গেলে কৃষি জমি রক্ষা পাবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আবাসন সুবিধা পূরণের জন্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ পদ্ধতি অনুসরণ করে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

 

রিহ্যাবের পরিচালক কামাল মাহমুদ বলেন, নগরায়ন ও শিল্প প্রসারের লক্ষ্যে নিত্য নতুন শিল্পাঞ্চল সৃষ্টি, জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপে নানাবিধ কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ও প্রবেশ উপযোগী সার্বজনীন স্থানের সংকুলান বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানাবিধ কারণে বসতি সমস্যা এখন বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত প্রকট। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে নগরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুত নগরায়নের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সেটা যেন অপরিকল্পিতভাবে গড়ে না ওঠে সেদিকে লক্ষ্য রাখা একান্ত আবশ্যক। রিহ্যাবের পক্ষ থেকে একটি পরিকল্পিত নগর গঠনে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অনেক দিন ধরে কাজ করে আসছি। আমাদের এ প্রক্রিয়া চলমান। তিনি বলেন, রিহ্যাবের সদস্যরা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার ফ্ল্যাট সরবরাহ করেছে। একই সাথে সমপরিমাণ প্লট সরবরাহ করেছে। নানাবিধ সমস্যা থাকলেও পরিকল্পিত নগর গঠনে রিহ্যাব বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।

 

গতকাল ছিল বিশ্ব বসতি দিবস। এ উপলক্ষে গতকাল বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। সকাল ৭টায় শহীদ মিনার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিশেষ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ৯টায় ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে হয় আলোচনা সভা। পরে বেলা ৩টায় গণপূর্ত অধিদপ্তরে ‘মানব বসত, ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

 

১৯৮৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪০তম অধিবেশনে বিশ্ব বসতি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। পরের বছর থেকে থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার পালিত হয় দিবসটি। ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘ বাসাবাড়ির পরিবেশ উন্নয়নে অবদান রাখায় ব্যক্তি ও সংস্থাকে জাতিসংঘ বসতি পুরস্কার প্রদান করছে। বাসযোগ্য পরিবেশ, সবার জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা থাকাসহ সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশেরও প্রতিবছর এ দিবসটি পালিত হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ