• সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ০৭:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

সাবেক এমপির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন শেষে সরিষাবাড়ীতে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ॥আহত ১০

আপডেটঃ : শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি॥
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মারুফ হাসানকে (৩৫) হত্যার ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও পিংনা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন জয়সহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।
দলীয় সুত্র জানায়, সরিষাবাড়ী পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক ও আওনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মারুফ হাসান (৩৫) গত ২০ সেপ্টেম্বর সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একই ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড সদস্য মেন্দারবেড় গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে মোবারক হোসেন রাজার (৩৩) হাতে জখম হন। রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে একমাস চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহষ্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আওনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যাকান্ডে সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মুরাদ হাসানের সরাসরি নির্দেশনা ছিলÑ বলে অভিযোগ করা হয়।
নিহতের বাবা আলহাজ মতিয়র রহমান ও বড়ভাই ফারুক হোসেন অভিযোগ করেন, ‘মারুফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। মুরাদ হাসানের গ্রুপে কাজ না করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’ ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বেল্লাল হোসেন এবং সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান, ‘মারুফকে জখমের আগেরদিন হামলাকারী সন্ত্রাসী রাজার বাড়িতে সাবেক এমপি গভীর রাত পর্যন্ত মিটিং করেছেন।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ, সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উপাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, পোগলদিঘা ইউপি চেয়ারম্যান সামস উদ্দিন, পিংনা ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার মোতাহার হোসেন জয় প্রমুখ।

 


এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ হারুন-অর-রশিদ ও সাবেক এমপি ডা.মুরাদ হাসানের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেলের আঘাতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ছাত্রলীগ নেতা এস.এ নিরবকে ময়মনিসংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পৌর ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাজ্জাত হোসেনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী কলেজের জিএস মাহমুদুল হাসান দুখু অভিযোগ করেন, ‘উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা করা হয়। এতে নিরব, সাজ্জাত, সুমন, মিল্টন, কপিল, খোকন ও অন্তরসহ কয়েকজন আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি হতেও বাধা দেওয়া হয়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জানান, ‘সংবাদ সম্মেলন শেষ হতেই প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে।’ এদিকে মারুফ হাসানের হত্যাকারীর ঈন্ধনদাতাকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত যমুনা সার কারখানা এলাকায় লাগাতার আন্দোলন চলবে বলে তিনি জানান।
মারুফ হত্যাকান্ডের সাথে জড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়ে সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসান জানান, ‘অভিযোগটি মিথ্যা। নিহত মারুফ আমারই নিবেদিত কর্মী ছিল।’ এছাড়া সংবাদ সম্মেলন শেষে উস্কানিমুলক কথা বলায় সংঘর্ষ বাধে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
থানার ওসি রেজাউল ইসলাম খান বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিUpload Filesস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ