ভোলা প্রতিনিধি॥
মধ্যবিত্ত পরিবারের কোন সন্তান যদি পড়াশুনা করে দশম শ্রেণীতে উঠলেই পরিবার তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। যখনই এসএসসি পাশ করে মাধ্যমিক জীবন শেষ করে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির প্রস্তুতি নিবে ঠিক ঐ মুহুর্তে বাবা মা মনে করে আমরা স্বার্থক, আমার সন্তান এসএসসি (মেট্টিক) পাশ করে কলেজে ভর্তি হয়েছে। আর যেদিন এসএসসি ফলাফল দিবে ঠিক সেই দিনই পরীক্ষার্থীসহ বাবা-মা, ভাই-বোন, আতœীয়- স্বজন সাড়া দিন তাকিয়ে থাকে কখন তাদের পরিবারের ছেলেটির রেজাল্ট আসবে। মা বাবার চোখে থাকবে দৃষ্টি ভরা স্বপ্ন। আর আনন্দে বাসবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থী। কিন্তু সেই আনন্দ ও স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত হলো ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ব্যারিষ্টার কাচারী এলাকার ২নং ওয়ার্ডের সাজাহান মিয়ার ছেলে নিহত রমজানের পরিবারের। ৬ই মে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজাল্ট দেওয়া হয়। আর এই পরীক্ষায় মাদ্রাসা বোর্ড থেকে অংশগ্রহণ করেছেন রমজান। কিন্তু রমজান অন্যান্য সহপাঠীদের চেয়ে ভালো রেজাল্ট (৪.২০) করেও দেখে যেতে পারে নি। রেজাল্ট ঘোষনার পর এই প্রতিবেদক রমজানের রেজাল্ট জানার জন্য ছুটে জান ইলিশা নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসায়, সেখানে গিয়ে কথা হয় মাদ্রাসার শিক্ষকদের সাথে তারা জানান, অন্য ছাত্রদের চেয়েও রমজান ছিল মেধাবী। আর এই মেধায় রমজান আজ ভাল ফলাফলে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু রমজান দেখে যেতে পারেনি। রমজানের পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন কে দেখবে রমজানের এই রেজাল্ট? ছেলেটির দশ বছরের স্বপ্ন পাওয়ার ৪দিন আগেই সবাইকে কাদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। রমজানের রেজাল্ট পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন তার বাবা-মা ও তার সহপাঠীরা।
উল্লেখ্য, গত ১ই মে রমজান তার ভাই মাকছুদের বিকাশের দোকানে বসলে বিকাশের নামে প্রতারণা করে ৩১ হাজার টাকা হারানোর পর তার ভাই এর বকা-ঝকা খেয়ে আতœ হত্যা করেন।

Share Button