ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) হইতে ব্রেক্সিট তথা ব্রিটেনের বাহির হইয়া যাইবার বিরুদ্ধে অবস্থান লইয়াছে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ। ফোকালডাটা নামক একটি প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান পরিচালিত গবেষণা হইতে এই তথ্য পাওয়া গিয়াছে। হিসাবমতে,  ব্রিটেনের তিনটি প্রধান অঞ্চল তথা ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের সর্বমোট ৬৩২টি পার্লামেন্টারি আসনের মধ্যে এই মুহূর্তে ৩৪১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ ইইউতে থাকিয়া যাইবার পক্ষে অবস্থান করিতেছে। পক্ষান্তরে, বাকি ২৮৮টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ এখনো ব্রেক্সিটের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ধরিয়া রাখিয়াছে। স্মর্তব্য, ২০১৬ সালের জুন মাসে গণভোটকালে ৪০৩টি আসন ব্রেক্সিটের পক্ষে ও ২২৯টি আসন ব্রেক্সিটের বিপক্ষে অবস্থান লইয়াছিল। এইভাবে দেখিলে, এখন অবধি সর্বমোট ১১৫টি আসন ব্রেক্সিটের পক্ষ হইতে বিপক্ষে সরিয়া গিয়াছে।
ব্রেক্সিট বিষয়ক সর্বশেষ তথ্য যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-এর জন্য নূতন করিয়া চাপ সৃষ্টি করিবে তাহাতে সন্দেহ নাই। বর্তমানে তাঁহার নিজ-দল ক্ষমতাসীন  কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যেই ব্রেক্সিটের উপায়াদি লইয়া পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র দ্বন্দ্ব চলিতেছে। একপক্ষের মতে, ইইউ-এর সহিত বিচ্ছেদ হইতে হইবে ব্রিটেনের শর্তমাফিক ও সর্বাত্মক। অন্যপক্ষের মতে, ব্রেক্সিট অবশ্যম্ভাবী কিন্তু বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থবাহী শিথিলতাই কাম্য। অবশ্য কনজারভেটিভদের এই দুইপক্ষের অবস্থানের কোনোটিই ইইউ-এর নিকট গ্রহণযোগ্য বলিয়া প্রতীয়মান হইতেছে না। ইইউ এবং ইহার অন্তর্ভুক্ত প্রভাবশালী দেশগুলি বরং চূড়ান্তমাত্রার বোঝাপড়া সাপেক্ষেই ব্রেক্সিট সংঘটিত হইবে বলিয়া জানাইয়া রাখিয়াছে। থেরেসা মে কেমন করিয়া এই চ্যালেঞ্জের জবাব দেন তাহাই দেখিবার বিষয়। ব্রেক্সিট প্রচারণায় নেতৃত্ব দানকারী উগ্র জাতীয়তাবাদীরা ইইউ-এর সহিত দরকষাকষিতে যেকোনো আপস বা শিথিলতাকে ব্রিটেনের জাতীয় শক্তির দুর্বলতা হিসাবে চিহ্নিত করিয়া ক্ষমতাসীনদের দায়ী করিতে শুরু করিবে। তেমন কিছু হইলে রক্ষণশীল, অভিবাসীবিরোধী ও উগ্র জাতীয়তাবাদীদের ভোটের উপরে নিরঙ্কুশ আধিপত্য হারাইবার ঝুঁকিতে পড়িয়া যাইবে কনজারভেটিভ পার্টি। এমতাবস্থায় দলের ভিতর হইতে ব্রেক্সিটের পরেও ইউরোপের সহিত সুষম সম্পর্ক রাখিবার জন্য প্রয়োজনীয় শিথিলতার সমর্থন থেরেসা মে দলের ভিতর হইতে খুব একটা পাইবেন বলিয়া মনে হয় না। আবার কঠোর ভূমিকা অবলম্বন করিয়াও খুব একটা সুবিধা হইবে না। কেননা তেমন কিছু করিতে হইলে ব্রিটেনকে ইউরোপ মহাদেশে একঘরে হইয়া যাইবার ঝুঁকি লইতে হইবে। এইদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দুইদেশের দীর্ঘকালীন নিবিড় সম্পর্কেও বেশ ভাটা পড়িয়াছে। এমতাবস্থায় ইউরোপকে একেবারে পরিত্যাগ করা কতখানি সঙ্গত হইবে সেই প্রশ্ন সঙ্গতভাবেই উঠিয়াছে।
ক্ষমতাসীনদের মতোই বিপদে আছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। ঐতিহ্যগতভাবে ইউরোপপন্থি হইলেও উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারণায় বিভ্রান্ত হইয়া শ্রমজীবী মানুষের ব্রেক্সিটমুখী হইয়া উঠিবার কারণে লেবার পার্টি নেতৃত্বও একপর্যায়ে আসিয়া অবস্থান পরিবর্তন করে। এক্ষণে, সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্রেক্সিট-বিভ্রান্তি কাটিতে শুরু করায় লেবার পার্টিকে সুবিধাবাদী হিসাবে চিহ্নিত হইবার ঝুঁকি এড়াইয়া অবস্থান পরিবর্তনের জটিল কাজটি শুরু করিতে হইবে।
Share Button