মৌলভীবাজার প্রতিনিধি॥
চাকুরী স্থায়ীকরণে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অগ্রণী ব্যাংকের মাঠসহকারীগণ। এসব মাঠসহকারীর প্রশিক্ষণে অগ্রণী ব্যাংকের বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় হয়েছে। এরপর হাতে কলমে কাজের মাধ্যমে দায়িত্ব পালণ করে এসব মাঠসহকারীরা শতভাগ দক্ষতা অর্জণ করেছেন এবং প্রশিক্ষিত ও দক্ষ ব্যাংকার হিসাবে দায়িত্ব পালণ করে আসছেন। ব্যাংকের চলমান কৃষি, পল্লী, ক্ষুদ্র ঋণ ও অন্যান্য ঋণ, বিতরণ-আদায় ও হিসাব খোলা কার্যক্রম সচল রাখার প্রয়োজনেই এসব মাঠসহকারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ জরুরী হওয়া সত্তেও, তা হচ্ছেনা দীর্ঘ ৮ বছরেও।
মাঠসহকারীদের সূত্রে জানা গেছে- বর্তমান সরকারের কৃষি উন্নয়নের আওতায় ২০১১ সালে একটি সার্কুলারের মাধ্যমে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করা ১ হাজার ২শ জন লোককে মাঠসহকারী পদে শামসুল ইসলামের ব্যবস্থাপনাধীন অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়েছিল। চাকরিতে যোগদানের পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে এসব মাঠসহকারীর চাকরি স্থায়ীকরণের কথা ছিল।
কিন্তু, সরকারের সদিচ্ছা সত্তেও কতিপয় কর্তাব্যক্তির অবহেলার কারনে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে এসব মাঠসহকারীর চাকরি এখনও স্থায়ী করছেনা। অতীতেও এভাবে মাঠসহকারীদেরকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগের ১ বছরের মধ্যেই চাকরি স্থায়ী করা হয়েছিল। কিন্তু, ২০১১ সালে নিয়োগকৃত ১ হাজার ২শ জন মাঠসহকারীর চাকরি স্থায়ীকরণ হচ্ছেনা দীর্ঘ ৮ বছরেও।
এসব মাঠসহকারীদেরকে নিয়োগের সময় কম্পিউটার সার্টিফিকেট নেয়া হয়েছিল। তারা বেক্সি ব্যাংক, ঞ২৪ সফ্টওয়ার, অনলাইন সিএল প্রস্তুত, এনজিভুক্তি, ভাউচার তৈরি, রেমিটেন্স আদান-প্রদানসহ অন্যান্য কাস্টমার সার্ভিসিং কার্যক্রমে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন। তাছাড়া, এসব মাঠসহকারী স্থানীয়ভাবে নিয়োজিত হবার কারনে ব্যাংকের অন্যান্য কার্যক্রমও বেগবান হয়েছে।
তথাপিও, নিয়োগের ৩ বছর পর বিগত ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে হঠাৎ করে এসব মাঠ সহকারীদেরকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এর ফলে, ওই বছর অগ্রণী ব্যাংকের প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশী বিভিন্ন পর্যায়ের ঋন শ্রেনীকৃত হয়ে পড়ে। এরপর ব্যাংকের দূরবস্থা দূর করার জন্য পুণরায় মাঠসহকারীদেরকে ডেকে নিয়ে পূর্বপদে বহাল করা হয় এবং সাবেক মহা-ব্যবস্থাপক আব্দুল হামিদ এসব মাঠসহকারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু, তিনি অবসরে চলে যাওয়ায় তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
অথচ, বিভিন্ন গোপন প্রতিবেদনে দেখা যায় তেমন প্রয়োজন না থাকা সত্তেও মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে প্রতিবছর অফিসার পদে নতুন লোক নিয়োগ করা হচ্ছে। মূলত, মাঠসহকারীরা এসব নতুন নিয়োগকৃতদের চেয়ে শতগুনে দক্ষ। বিভিন্ন শাখায় নতুন করে নিয়োজিত অফিসার ও সিনিয়র অফিসারেরা এসব মাঠসহকারীদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন বলেও পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের মহা-ব্যবস্থাপকের গৃহীত ১শ দিনের কর্মসূচী মূলত এসব মাঠসহকারীরাই বাস্তবায়ন করছেন।
তাই, অবিলম্বে সরকারী অন্যান্য ব্যাংকের ন্যায় কৃষি ঋন অফিসার হিসেবে এসব মাঠসহকারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ এখন সময়ের দাবী। এ দাবী পূরনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অগ্রণী ব্যাংকের এসব মাঠসহকারীরা।

Share Button