পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি॥
স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরুর পর পাক হানাদার বাহিনীর ১৭ এপ্রিল প্রথম পীরগঞ্জ আক্রমনের দিন বেয়নেট খুচিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা সাত শহীদের অন্যতম শহীদ আতিউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো এমপিও ভুক্ত হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন ভাতা অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষনার পর ১৭ই এপ্রিল পাক হানাদার বাহিনী প্রথম পীরগঞ্জে প্রবেশ করে এবং তৎকালীন থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ডাঃ সুজাউদ্দীন, শিক্ষাবিদ প্রফেসর গোলাম মোস্তফা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার, হোটেল ব্যবসায়ী মোঃ মোজাফ্ফর আহম্মেদ, কৃষক আতিউর রহমান, কাঠ মিস্ত্রি মনিন্দ্রনাথ ও তার সহযোগী অজ্ঞাত একজন সহ মোট ৭ জনকে ধরে নিয়ে যায়। পীরগঞ্জ হতে ঠাকুরগাঁও ফেরার পথে হানাদার বাহিনী পীরগঞ্জ-ঠাকুরগাঁও সড়কের পাশে জামালপুর (ভাতার মারি) ইক্ষু খামারে তাঁদের গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে  যায়। এই ৭ শহীদের অন্যতম শহীদ আতিউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে শহীদের এই স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য শহীদের পরিবার পরিজনেরা ২০০০ সালের শুরুতে প্রতিষ্ঠা করেন শহীদ আতিউর রহমান নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টি পীরগঞ্জ-বীরগঞ্জ সড়কের পার্শ্বে চাপোর গ্রামে ১ দশমিক ৫৮ একর জমির উপর মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। বিদ্যালয়ে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিসরযুক্ত আধাপাকা ঘর। রয়েছে খেলার মাঠও। অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা দেড় শতাধিক। কর্মরত রয়েছেন শিক্ষক ৮ জন ও কর্মচারী ২ জন। বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা ২০১০ সাল থেকে জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে আসছে। পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক।
এই শহীদের নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ অবধি সরকারের এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক কর্মচারীরা বিনা বেতনেই শিক্ষাদান ব্রত পালন করে চলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ১০ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে পীরগঞ্জের প্রথম শহীদের স্মৃতি ধারণকারী শহীদ আতিউর রহমান বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন-ভাতা অভাবে দূর্বিসহ জীবন যাপন করছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী- অভিভাবক এবং শহীদ পরিবারের লোকজন ছাড়াও এলাকার সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শহীদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য শহীদ আতিউর রহমান নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্তির জোর আবেদন জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে শহীদ আতিউর রহমান নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম আকতার জানান, বিদ্যালয়টি ২৩/০৮/২০০০ তারিখে উপ পরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রংপুর অঞ্চল, রংপুর হতে পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি এবং ২৫/০৫/২০০৫ তারিখে একই দপ্তর হতে একাডেমিক স্বীকৃতি লাভ করে। বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি মেয়াদ ৩১/১২/২০২০ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয়টির ইআইআইএন নং- ১২৮৯৩৩। তিনি আরো জানান, শহীদ স্মৃতি বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্তির সকল শর্ত পুরন করলেও সরকারি সিদ্ধান্তের কারনে এমপিও ভুক্তি আটকে আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সরকার পীরগঞ্জের প্রথম শহীদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য শহীদ আতিউর রহমান বিদ্যালয়টি অচিরেই এমপিও ভুক্ত করবেন-এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম সাঈদ হাসান বলেন, উপজেলায় নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৩টি। এর মধ্যে একমাত্র শহীদ আতিউর রহমান নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের নামে প্রতিষ্ঠিত এবং পীরগঞ্জ-বীরগঞ্জ সড়কের পাশে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। এ বিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর জেএসসি পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করছে এবং ফলাফলও সন্তোষজনক বলে স্বীকার করেন।

Share Button