• বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

পাবনার আর-আতাইকুলা ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে ওয়ার্ড সদস্যদের অনাস্থা

আপডেটঃ : সোমবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০১৮

পাবনা প্রতিনিধি॥
অনিয়ম দুর্নীতি সেচ্চারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পাবনার আর-আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যানের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অপসারণ দাবিতে নির্বাচিত ইউপি সদস্যরা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন।
পাবনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন সুত্রে জানা গেছে, আর-আতাইকুলা ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম বিশ্বাস ক্ষমতার অপব্যবহার করে সকল উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী মূলক প্রকল্প গুলো ইউপ সদস্যদের না জানিয়ে একক সিদ্ধান্তে সেচ্ছাচারিতা অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ভুয়া প্রকল্প দাখিল করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে চলেছেন। সে কারণে ইউনিয়নবাসী সরকারের বরাদ্দকৃত উন্নয়ন খাতের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ওই আবেদন পত্রে আর আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদের ১০টি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা  স্বাক্ষর করেছেন। তাদের অভিযোগ ২০১৬-১৭ ইং অর্থ বছরে হাট-বাজার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ কৃত রাজস্ব প্রায় ৩৮ লাখ টাকা ভুয়া প্রকল্প গ্রহণ করে ইউপি সদস্যদের প্রকল্প সভাপতি (পিআইসি)  দেখিয়ে কোন কাজ না করে ইউপি সদস্যদের নামের বরাদ্দকৃত টাকা গোপনে ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাব প্রামানিকসহ একাধিক সদস্য বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ভূমি হস্তান্তর করের ১ শতাংশ টাকা আত্মসাৎ ভিজিডি কার্ড, বিধাবা ভাতা, বয়স্কভাতা, প্রতিবন্ধীভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা বিতরণে অনিয়ম ও হতদরিদ্রদের চল্লিশ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ না করেই দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও অনিয়ময়ের মাধ্যমে আমদানী রপ্তানী শুল্ক কর এবং বনগ্রাম ও আতাইকুলা হাটের টোল আদায়ে এবং বিনা রশিদে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি দিয়ে উত্তোলন করে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে।  অপরদিকে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে এলজিএসপির বরাদ্ধকৃত টাকা কোন প্রকার ওয়ার্ড মিটিং ব্যতিত এবং ইউপি সদস্যদের অগচরে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ কোন প্রকার আলোচনা ব্যতিত পরিষদ সদস্যদের কোন চিঠি পত্র দৃষ্টি গোচর না করেই জোর জবর দস্তি কওে রেজুলেশন ও অন্যান্য খাতা পত্রে স্বাক্ষর নেয়ার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ভিজিডি চক্র কার্ড ধারী অভাবী দুস্থ মহিলাদের মালামাল বিতরণের সময় পরিবহণ বাবদ ব্যয় দেখিয়ে সঞ্চয়ী টাকার সাথে আরো অতিরিক্ত ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত ইউপি সচিবের মাধ্যমে অনিয়ম তান্ত্রিক উপায়ে আদায় করিয়ে আসছেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম।
এ সমস্ত অনিয়ম, দুর্নীতি, সেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারে জিম্মিদশা থেকে মুক্তির জন্য আর আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদের ১০টি ওয়ার্ডের সকল ইউপি সদস্যরা তাদের পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতি আনাস্থা জ্ঞাপন করে তারা দ্রুত চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলামের অপসারণ দাবি করেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগী ইউপি সদস্যরা রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপিপত্র প্রেরণ করেছেন।
এ বিষয়ে আর-আতাইকুলা ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, সদস্যদের অভিযোগ সঠিক নয়। আমি তাদের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করার প্রতিবাদ করায়, তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি আরো জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর আর-আতাইকুলা ইউপি সদস্যদের প্রকল্প সভাপতি (পিআইসি) করে দাখিলকৃত প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ বন্ধ রাখা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ