• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম:

মেঘনায় নিখোজ ট্রলার চালক আমির হোসেনের লাশ উদ্ধার সন্দেহের তীর সৎ ভাইয়ের দিকে

আপডেটঃ : বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

হাসানুজ্জামান (দাউদকান্দি)॥
আজ মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার মেঘনা উপজেরার চালিভাঙ্গা বাশ বাজার খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় মেঘনা থানা পুলিশ নিখোজ ট্রলার চালক আমির হোসেনের লাশ উদ্ধার করেছে।
উল্লেখ্য গত রোববার রাত থেকে মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের আমীর হোসেন নামের এক ট্রলার চালককে খুজে পাওয়্ যাচ্ছিলনা। ধারণা করা হচ্ছিল তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে এবং সে সন্দেহই অবশেষে সত্যিতে পরিনত হল। সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ এবং স্বজনরা নদীতে খোজাখুজি করেও কোন হদিস পাচ্ছিলনা।  আমির হোসেনের সৎ ভাই দেলোয়ার হোসেন কে কে বা কারা হত্যার  উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাতে আহত করেছে বলেও শোনা যাচ্ছে।
তবে আমির হোসেনকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে , নাকি ঘুম করা হয়েছিল এ প্রশ্নটিই ওই এলাকার মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছিল।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের ্ইসলামাবাদ গ্রামের মৃত হানিফ মিয়ার বড় ছেলে ট্রলার চালক আমীর হোসেনকে রোববার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তার সৎ ভাই দেলোয়ার হোসেনের ফোন পেয়ে তাকে বৈদ্যার বাজার থেকে আনতে যায়। এর পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমাকে বাচাও চিৎকার দিয়ে চালিভাঙ্গা গ্রামের পাগারী বাড়ীর হযরত আলীর বাড়ীতে উঠে দেলোয়ার হোসেন। তার কিছুক্ষন পরই ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ স্প্রিট বোট নিয়ে ওই বাড়ী থেকে দেলোয়ারকে আহত অবস্থায় নিয়ে যান বলে ওই বাড়ীর রেকমত আলীর স্ত্রী পারভীন বেগম জানান।
নিখোজ আমীর হোসেনের ১৫ বছরের ছেলে ইব্রাহিম বলেন, বাবা এবং আমি ট্রলার নিয়ে বাড়ী আসার সময় আব্বার মোবাইলে একটা ফোন আসে। তখন বাবা আমাকে বলে তুই বাড়ীতে যা আমি পরে আসব। এ কথা বলার পর  কে ফোন করেছে জিজ্ঞাস করলে বাবা বলে তোর চাচা ফোন করেছে তাকে বৈদ্যার বাজার থেকে নিয়ে আসতে এবং একথা কাউকে জানাতে না করেছে , তুই কাউকে এমনকি তোর মাকেও বলিছ না।  এর পর থেকেই বাবাকে আর পাওয়া যাচ্ছে না ।
চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, রোববার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে আমার কাছে ফোন আসে আমার কর্মী দেলোয়ার হোসেনকে মেরে ফেলেছে  সাথে সাথেই আমি স্প্রিট বোট নিয়ে ওই বাড়ী পাগারী বাড়ী যাই এবং দেলোয়ারকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই।
সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, আমীর হোসেন এলাকার নিরীহ ছেলে, দেড় বছর বয়সে মাকে হারানোর পর সৎ মায়ের যন্ত্রনায় তার বাবা  অন্যত্র তাকে পালক দিয়ে দেন। বড় হয়ে বিয়ে করার পর নিজ বাড়ীতে যান আমীর হোসেন। প্রশাসনের নিকট আমার জোর দাবী তাকে হত্যা কে কেন্দ্র করে যেন কোন নিরীহ লোক হয়রানীর শিকার না হয় এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করেন।
মেঘনা থানার ওসি মোঃ সামসুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমরা খবর পেয়ে রাতেই ফোর্স পাঠিয়ে রক্ত মাখা ট্রলারটি জব্দ করেছি। সোমবার সকালে এলাকাবসীর সহযোগিতায় নদীতে খোজাখুজি করেছি কিন্তু কোথাও আমির হোসেনকে অথবা তার লাশ পাওয়া যায়নি তবে আজ মঙ্গলবার তার লাশ নদীতে ভেসে উঠায় আমরা নিশ্চিত হয়েছি তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছিল। আর আমীর হোসেনের স্ত্রীকে লিখিত অভিযোগ করতে বলা হলেও এখনো তা করেনি। আর দেলোয়ারের সাথে আমার কথা হয়নি, তবে তার কাছে(ঢাকা মেডিকেল) আমার অফিসার পাঠিয়েছি। পূর্বে বালু কাটা নিয়ে একাধিক মামলাও রয়েছে এই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ