• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-রংপুর-রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন চট্টগ্রাম ও রংপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন, সংঘর্ষে নিহত ৪ কোটা আন্দোলনকারীদের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধন রয়েছে: কাদের মহাখালীতে রেললাইন অবরোধকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ জনদুর্ভোগ, ধ্বংস বা রক্তপাত ঘটালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি দায়িত্ব পালন করবে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার বেইলি রোড অবরোধ করলো ভিকারুননিসার ছাত্রীরা বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪ কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল ঢাকা রাজসিক আয়োজনে এমবাপ্পেকে বরণ করতে প্রস্তুত বার্নাব্যু ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বন্দুক হামলায় নিহত ৪

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা পাল্টাপাল্টি দোষারোপ আ.লীগ-বিএনপির

আপডেটঃ : সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৭

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অন্যকে দোষারোপ করছে। বিএনপি বলছে, ফেনীতে গাড়িবহরে হামলা করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। আর আওয়ামী লীগ বলছে, গণমাধ্যমে প্রচার পেতে বিএনপি নিজেই এই হামলা করিয়েছে। এতে যুবদল-ছাত্রদল জড়িত। তবে দুই দলই বলছে, এই হামলা পরিকল্পিত।

পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগের মধ্যেই গণমাধ্যমে একটি ছবি প্রচারিত হয়েছে, যাতে এক ব্যক্তিকে হামলা করতে দেখা যায়। স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলছেন, এই হামলাকারী হলেন ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি ওরফে রিয়েল। তবে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, গণমাধ্যমে প্রচারিত ওই ছবি এডিট (সম্পাদনা) করা।

খালেদা জিয়ার কক্সবাজারে যাওয়ার পথে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর অংশে তিনটি স্থানে গাড়িবহরে হামলা হয়। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের বহনকারী আটটি মাইক্রোবাসসহ ১৫-২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এর আগে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর পৌঁছানোর আগেই জমায়েত হওয়া বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা হয়। রাতে মিরসরাইয়ে খালেদা জিয়ার মিডিয়া উইংয়ের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তবে গতকাল রোববার সকালে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি; বরং আগের দিনের তুলনায় পথে পথে লোকসমাগম বেশি ছিল।

আগের দিনের হামলার বিষয়ে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা পরিকল্পিত। এতে সাংবাদিকেরাও আহত হয়েছেন। এই হামলা কারা করেছে, তার সাক্ষী সাংবাদিকেরাই।

হামলার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছাপানো ও প্রচার হওয়া প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত পত্রিকায় দেখলাম, ছবিতে দেখলাম, এরা চিহ্নিত। খুব স্পষ্ট করে বোঝা যাচ্ছে, এরা সরকারি দল আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ অথবা যুবলীগের ক্যাডার। ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা যে এটা করেছে, এটা পত্রপত্রিকায় এসে গেছে। তাদের পরিচয়ও এসে গেছে। হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেন, দেশের বিচার বিভাগ ও মিডিয়া দুটিই এখন আক্রান্ত। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ অন্যান্য বিভাগকেও আক্রান্ত করবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে সড়কের দুই দিকে মানুষের ঢল নামায় সরকার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

একই বিষয়ে গতকাল সকালে ঢাকায় সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি অভিযোগ করেন, গণমাধ্যমে প্রচার পেতে ছাত্রদল-যুবদলই বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে হামলা চালিয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার কাছে খবর আছে, ছাত্রদল ও যুবদল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদল ও যুবদলকে দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগের ওপর যুবলীগের ওপর দোষ চাপানোর এটি একটা মতলব, সেই মতলবটা এখন পরিষ্কার।’ তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন রোহিঙ্গাদের দেখতে যাবেন, এটা নিয়ে সরকারের কোনো সমস্যা নেই। বরং তাঁর সফরে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সে জন্য প্রশাসনকে আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিলেন তাঁরা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ফেনীতে প্রবেশের আগে চৌদ্দগ্রাম সীমান্তে হঠাৎ করে কিছু মোটরসাইকেল এসে ঢিল মারে। এরপর থেকেই শুরু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির। সেখানে সাংবাদিকেরাও আক্রান্ত হন। আওয়ামী লীগ কেন সাংবাদিকদের ওপর হামলা করতে যাবে? তিনি বলেন, ‘যাত্রাপথে আমরা যদি কোনো বাধা দিই, তাহলে ক্ষতিটা আমাদের। আমরা জেনেশুনে কেন নিজেদের জন্য এ ক্ষতি টেনে আনব? আমরা শান্তিতে দেশ চালাচ্ছি, এর তো কোনো প্রয়োজন নেই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার এই সফরে জনতার ঢল নেমেছে। আসলে কেউ আসেনি। জনতার ঢল না নামায় তাদের একটি বড় সংবাদের প্রয়োজন ছিল। এ কারণেই হামলার নাটক সাজিয়েছে তারা। এই হামলায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ জড়িত নয়। তিনি বলেন, সড়কপথে গিয়ে খালেদা জিয়া ত্রাণকাজে বাধা দিয়েছেন। রাজপথে যানজট সৃষ্টি করেছেন। তিনি যদি রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিক হতেন, তাহলে সড়কপথে না গিয়ে বিমানে যেতেন।

খালেদা জিয়ার সফর নির্বিঘ্ন করতে সরকার সচেষ্ট ছিল দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ঢাকা থেকে ফেনী পর্যন্ত খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ১৫০টির মতো গাড়ি ছিল। তিনি মৌলভীবাজার থেকে খোঁজখবর রাখছিলেন। তিনি শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা থাকা অবস্থায় তাঁকে সার্কিট হাউস ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু কক্সবাজারে সফররত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইচ্ছামতো যেকোনো সার্কিট হাউসে থাকতে পারবেন। তাঁর যাতে থাকা বা বিশ্রামে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে।

 

খালেদার পদক্ষেপ আ.লীগের পর্যবেক্ষণে

সড়কপথে খালেদা জিয়ার কক্সবাজারে যাত্রা বিপুলসংখ্যক মানুষের সাড়া পাক এটা সরকারি দল চায়নি। এ কারণে শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সচেষ্ট ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, শনিবার বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ঢাকা থেকে যাত্রা শুরুর পর থেকেই তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করেছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছিলেন। খালেদার যাত্রাপথে কী পরিমাণ জনসমাগম হয়েছে, এটাও তাঁদের অন্যতম আগ্রহের বিষয় ছিল।

আওয়ামী লীগ মনে করছে, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি, খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি—এসব বিষয় মাথায় রেখেই খালেদা জিয়া সড়কপথে কক্সবাজারে যাত্রা করেন। এর মাধ্যমে বিপুল মানুষের সাড়া ফেলতে চেয়েছেন তিনি। এটা সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপির মাঠে নামার পূর্ব প্রস্তুতির অংশ।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকেবলেন, খালেদা জিয়া বিপুলসংখ্যক মানুষ মাঠে নামিয়ে ফেলেন কি না, এ বিষয়ে তাঁদের মধ্যে একটা সতর্ক ভাবনা ছিল। খালেদা জিয়াকে আগামী দিনে বিপুলসংখ্যক মানুষ নামিয়ে মাঠ গরম করার সুযোগ হয়তো দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে বাধা দিলে সরকার বদনামের ভাগীদার হবে। আবার ছেড়ে দিলে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এটা একটা জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ