• মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৫:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
জনদুর্ভোগ, ধ্বংস বা রক্তপাত ঘটালে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি দায়িত্ব পালন করবে -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবার বেইলি রোড অবরোধ করলো ভিকারুননিসার ছাত্রীরা বগুড়া আজিজুল হক কলেজে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪ কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অচল ঢাকা রাজসিক আয়োজনে এমবাপ্পেকে বরণ করতে প্রস্তুত বার্নাব্যু ওমানের রাজধানী মাস্কাটে বন্দুক হামলায় নিহত ৪ আপিল বিভাগের রায় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন : ব্যারিস্টার সুমন শেষ হচ্ছে শাওন-পাওলিদের ‘নীল জোছনা’ সিনেমার শুটিং মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান দিতে হবে: শেখ হাসিনা কোটা আন্দোলন: ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা

আয়কর দিবসের ভাবনা

আপডেটঃ : বুধবার, ১ নভেম্বর, ২০১৭

রাষ্ট্রের কাছ থেকে আমরা নানা রকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকি। আমাদের এসব সুযোগ-সুবিধা ভোগের যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের বেশ কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্যও রয়েছে। আমার সমস্ত শিক্ষাজীবনের মোট ব্যয় মাত্র চার হাজার সাতশ পঞ্চাশ টাকা। তাহলে প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক যে বাকি অর্থের জোগানদাতা কে? শুধু তাই নয়, জীবনযাত্রা ও আরাম-আয়েশের জন্য আমরা অনেক কিছু ব্যবহার করে থাকি। বড় বড় রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাই, ট্রেনে চড়ে ঘুরে বেড়াই, নামি-দামি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করি, বড় বড় ব্রিজ, হাসপাতাল, বিমান বন্দর ইত্যাদি ব্যবহার করি। এসব আসে কোথা থেকে ?

একটি দেশে যে সম্পদ থাকে তার সবটুকুই কোনো না কোনোভাবে সে দেশের জনগণের। কাজেই সম্পদ ভোগ করার অধিকার যেমন জনগণের রয়েছে তেমনি সেই সব সম্পদ সংরক্ষণ ও রক্ষার দায়িত্বও সে দেশের জনগণেরই। একটি দেশের সম্পদ সৃষ্টি ও রক্ষায় কোনো না কোনোভাবে ওই দেশের প্রতিটি নাগরিকের অবদান রয়েছে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমার শিক্ষা জীবনের ব্যয় অতি সামান্য। আসলে আমার শিক্ষার পেছনে সরকার ব্যয় করেছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। আর সেই অর্থ এসেছে এদেশের কামার, কুমার, তাঁতি, জেলে, পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছ থেকে। অর্থাত্ এদেশের প্রতিটি মেহনতী মানুষের ঘাম জড়িয়ে আছে আমার জীবনের সঙ্গে। প্রজাতন্ত্রের কর্মজীবীদের বেতন, নানা প্রকার উন্নয়নে ব্যয় হয়ে থাকে জনগণের ট্যাক্সের অর্থ। সুখের বিষয় হলো, এদেশের প্রতিটি মানুষই কোনো না কোনোভাবে ট্যাক্স পরিশোধ করছেন। তবে বিষয়টি অনেক ট্যাক্সদাতারই অজানা। যেমন একজন শ্রমিক তার ব্যবহারের পণ্য ক্রয়ের সময় কর দিয়ে থাকেন। কিন্তু তিনি জানেন না যে তিনি কর পরিশোধ করেছেন। তিনি কর দিয়েছেন পরোক্ষভাবে। আবার অনেকে কর পরিশোধ করছেন প্রত্যক্ষভাবে।

মোটকথা, খুব সহজেই অনুমেয় যে, সরকার আমাদের কল্যাণে যে অর্থ ব্যয় করে থাকে তার উল্লেখযোগ্য অংশ আসে ট্যাক্স আদায়ের মাধ্যমে। কাজেই সঠিকভাবে ট্যাক্স প্রদান করা আমাদের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

প্রতিটি নাগরিকের দেশ ও মানুষের কল্যাণে সময়মত সঠিকভাবে ট্র্যাক্স প্রদান করা উচিত। ট্যাক্স না দেওয়ার প্রবণতা ব্যক্তি এবং জাতি উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। আরও মনে করি, ট্যাক্স প্রদানকারীকে সহজ পথ দেখিয়ে ট্যাক্স প্রদানে উত্সাহিত করাও আমাদের কর্তব্য। মনে রাখতে হবে নিয়মিত ট্যাক্স দিলে সম্পদের বৈধতা ও স্বচ্ছতা বাড়ে। কাজেই আসুন, আমরা নিজে ট্যাক্স দেই এবং অন্যকে ট্যাক্স প্রদানে উত্সাহিত করি। কারণ আমাদের দেয় ট্যাক্সের অর্থ ব্যয় হবে আমাদেরই কল্যাণে। নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করে সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলি।

লেখক: আয়কর আইনজীবী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ