জমকালো আয়োজনে রাজধানীর আইসিসিবি’তে তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো এফডিসিবি প্রেজেন্টস ট্রেসেমে খাদি :দ্য ফিউচার ফেব্রিক্স শো ’১৭। এতে ১৯ জন বাংলাদেশি ও ৭ জন আন্তর্জাতিক ডিজাইনার অংশগ্রহণ করেন। দুই দিনব্যাপী আয়োজিত ফ্যাশন শো নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ

যুগযুগান্তরে দ্রোহ এবং পৌরুষের প্রতীক হিসেবে খাদি কাপড় অনেকটা পৌরাণিক সংস্কৃতির মতো আমাদের জীবনে জড়িয়ে আছে। তেমনি ট্রেসেমে একটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড, যা সারা বিশ্বে আধুনিক ফ্যাশনের সাথে জড়িত। তাই ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের অন্যতম হেয়ার কেয়ার ব্র্যান্ড, ট্রেসেমে আয়োজিত ‘এফডিসিবি প্রেজেন্টস ট্রেসেমে খাদি :দ্য ফিউচার ফ্যাব্রিক শো ১৭’ অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল আধুনিক ফ্যাশনের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহ্যের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বহির্বিশ্ব এবং ডিজিটাল ফ্যাশনের সাথে খাদির পরিচয় ঘটানো। এবারের আয়োজনে ১৯ জন বাংলাদেশি এবং ৭ জন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ডিজাইনার অংশগ্রহণ করেছেন। ইভেন্টে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি ডিজাইনাররা হলেন মাহিন খান, কুহু, এমদাদ হক, চন্দনা দেওয়ান, শৈবাল সাহা, বিপ্লব সাহা, লিপি খন্দকার, মারিয়া ইসলাম, ফারাহ আনজুম বারী, শাহরুক আমিন, নওশিন খায়ের, তেনজিং চাকমা, আফসানা ফেরদৌসি, রাকা, ফাইজা আহম্মেদ, রিমা, সারা করিম, ফারা দিবা ও রুপু শামস্। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ডিজাইনারদের মধ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন রসনা শ্রেষ্ঠ (নেপাল), জ্যাকলিন ফং (মালয়েশিয়া), নীলান হারাসগামা (শ্রীলঙ্কা), চিমমি চদেন (ভুটান), সুকীজিত দাংচাই (থাইল্যান্ড), হিমাংশু শনি (ভারত) এবং সৌমিত্র মণ্ডল (ভারত)। ডিজাইনাররা খাদি কাপড়ে মডার্ন ট্রেন্ডস এবং ফ্যাশন স্টেটমেন্ট যোগ করে অসাধারণ সব কাজ তুলে ধরেছেন করেছেন এই ইভেন্টে। তাদের ডিজাইন করা পোশাকেই ইভেন্টের গ্র্যান্ড ফ্যাশন শো-তে র্যাম্পে হেঁটেছেন মডেলরা।

‘এফডিসিবি প্রেজেন্টস ট্রেসেমে খাদি :দ্য ফিউচার ফ্যাব্রিক শো ২০১৭’-এর টাইটেল স্পন্সর হিসেবে ছিল ট্রেসেমে। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা করেছে সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এছাড়া এ আয়োজনে সার্বিক সহায়তা দিয়েছে বেঙ্গল গ্রুপ, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইপিএবি), সেনোরা। ফ্যাশন ইভেন্টটির টেকনোলজি পার্টনার হিসেবে ছিল মাইক্রোসফট এবং মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল মাছরাঙা টেলিভিশন, বাংলানিউজ২৪.কম, রেডিও স্বাধীন, ক্যানভাস ও ফোরথট পিআর। এছাড়াও এ আয়োজনের হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে কাজ করেছে দ্য ওয়ে ঢাকা।

খাদি নিয়ে ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশের সভাপতি মাহিন খান বলেন, ‘ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে ঐতিহ্যের সংরক্ষণের জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে। খাদি আমাদের দেশের একটা শিল্প। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এই হাতে বোনা খাদি কাপড়ের আলাদা বৈশিষ্ট্য ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। বর্তমান সময়ে সবুজ (গ্রিন অর্গানিক) কাপড়ের উপর গবেষণা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণের চাহিদা অনুযায়ী এই খাদি কাপড় ব্যাপক জনপ্রিয়তায় জায়গা করে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। তেমনি ফ্যাশন কাউন্সিলও এই অনুপ্রেরণায় গবেষণার মাধ্যমে তৈরি করে যাচ্ছে খাদি শিল্পের উন্নয়নে জনসচেতনতা। ফ্যাশন কাউন্সিল খাদি উত্সবকে ঘিরে সচেতনতা তৈরিতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার প্রচেষ্টায় সচেষ্ট, সেই সাথে খাদির বিপণনে অঙ্গীকারবদ্ধ। যার ফলে ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ বিগত দুই বছরে খাদি উত্সব আয়োজনের মাধ্যমে খাদি শিল্পের প্রসারে রেখেছে বিশেষ ভূমিকা। এই উত্সব দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক ডিজাইনারদের পোশাক প্রদর্শনীর মাধ্যমে খাদি শিল্পের জনপ্রিয়তা বিস্তারে সফলতার সাথে অগ্রসর হয়েছে। এছাড়াও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনায় রয়েছে খাদিকে ঘিরে নানা উন্নয়নমূলক আয়োজন। বর্তমান সরকার খাদি শিল্পের উন্নয়নে নানারকম পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সেইসাথে চেষ্টা করছেন কিভাবে এই খাদি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করে অর্থনৈতিক সাফল্যের পথে অগ্রসর হওয়া যায়। আমাদের উদ্দেশ্য দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে আর্ন্তজাতিক বাজারে সাফল্যের আসনে অধিষ্ঠিত করা। সেইসাথে ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ খাদি দিবস উদযাপনেও বিশ্বাসী।’

 

উল্লেখ্য, আগামী ১০ এবং ১১ নভেম্বর গুলশান ক্লাবের গার্ডেনিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী খাদি পণ্যের প্রদর্শনী। এই প্রদর্শনী থাকবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। এতে উপস্থিত আগ্রহী অতিথিদের কাছে খাদি পণ্য বিক্রয়ও করা হবে।

Share Button