টাঙ্গাইল প্রতিনিধি॥
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করে নির্বাচিত এক চেয়ারম্যানের সংবর্ধনায় অতিথি হয়ে আসছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। ওই অনুষ্ঠানে প্রাজ্ঞ রাজনীতিক আবদুল লতিফ সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রীসভা থেকে বহিস্কৃত প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সাথে উপজেলা আ’লীগের নেতারা অংশ নেয়ার বিষয়টি নিয়ে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
আগামি শনিবার(৫ মে) কালিহাতীর বাংড়া ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হাসমত আলীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থানীয় ইছাপুর শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। হাসমত আলী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের আগে হাসমত আলীকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে বহিস্কার করা হয়। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রিয়াজ উদ্দিনকে পরাজিত করে হাসতম আলী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আগামি শনিবার নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত আসনের মহিলা মেম্বার ও সাধারণ আসনের মেম্বারদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে এলাকাবাসীর উদ্যোগে। এতে প্রধান অতিথি করা হয়েছে,  টাঙ্গাইলে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে। বিশেষ অতিথি করা হয়েছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী বিকম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক আবু নাসের, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মোল্লা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল মজিত তোতা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোনোয়ারা বেগম, এলেঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র নুর-এ-আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।
কালিহাতী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারির দূরত্ব যোজন যোজন। তিনি উপজেলায় এমপি লীগ গঠনে তৎপর। এলাকায় তাঁর চলাফেরা বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে। ফলে উপজেলায় দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য। ওই সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রীসভা থেকে বহিস্কৃত প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগকারী বর্ষিয়ান নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সাথে আওয়ামী লীগ নেতাদের অতিথি হওয়ার বিষয়টি এলাকায় চাউর হয়েছে। আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উপজেলার গন্ডি পেরিয়ে জেলাব্যাপী প্রসারিত হয়েছে। বিষয়টিকে নানা আঙ্গিকে ব্যাখ্যা করছেন আওয়ামী নেতাকর্মীরা। তাদের কারো বক্তব্য, আগামি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি জানান দিতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথি হয়েছেন। করো মতে, তাঁর স্ত্রী সাবেক সাংসদ বেগম লায়লা সিদ্দিকীকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হওয়ার প্রাক্কালে তিনি মাঠের অবস্থা অবলোকন করতেই অতিথি হয়েছেন। দু-চারজন বলছেন, দল থেকে বহিস্কৃত ব্যক্তি যেখানে প্রধান অতিথি, যে ব্যক্তি দলীয় প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন তার সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে প্রকারন্তরে দলের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিচ্ছেন। তাদের এ অবস্থান দলের জন্য শুভকর হবেনা।
কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি সূত্র জানায়, দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে উপজেলা আ’লীগকে উন্নয়নের গতিধারায় ফিরিয়ে আনতে জননেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বা তাঁর সহধর্মিনী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সাংসদ হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারির নানা কর্মকান্ডে উপজেলা আ’লীগ নাখোশ। ফলে বর্তমান সাংসদের সাথে উপজেলা আ’লীগ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের বৈরিতা তুঙ্গে পৌঁছেছে। উপজেলা আ’লীগের অধিকাংশ নেতা আগামিতে লতিফ সিদ্দিকীকে সামনে নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হতে চাইছেন। তৃণমূলের মনোভাবও একই। আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে সামনে নিয়ে আসার অংশ হিসেবেই এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজহারুল ইসলাম তালুকদার জানান, এটি দলীয় কোন কর্মসূচি নয়, একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সামাজিক অনুষ্ঠান।  আর লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত হলেও তিনি প্রাজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান ও প্রবীণ রাজনীতিক এবং আমাদের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তাই তিনি প্রধান অতিথি থাকলেও সামাজিক অনুষ্ঠানে আমরা থাকতে আপত্তি করিনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারি উল্লেখিত বিষয়ে কোন মন্তব্য না করে জানান, আগামি শনিবার(৫ মে) কালিহাতীর পটল বাজারে ‘বাংলাদেশকে নি¤œ আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করায় জাতিসংঘ কর্তৃক দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বীকৃতি দেয়ায় ধন্যবাদ জানিয়ে একটি আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সভাটির দিন-তারিখ প্রায় ১৫দিন আগে করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক জানান, বহিস্কৃত একজন নেতার সাথে দলীয় নেতাদের অতিথি হওয়া সঠিক হয়নি। তবে, লতিফ সিদ্দিকী প্রাজ্ঞ ব্যক্তি- তিনি নিজেকে এখনও সাচ্ছা আওয়ামীলীগার দাবি করেন, নানা অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হতেই পারেন।

Share Button