• শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন

এটি দোষারোপের সময় নয়

আল ইসলাম কায়েদ
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

স্ট্র্যাটেজিক দিক দিয়ে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বলা যায়, এ অঞ্চলের রাজনীতি ও অর্থনীতির গতি পরিবর্তনের নিয়ামক। উপমহাদেশ এবং এ অঞ্চলের মানচিত্রের দিকে তাকালে স্পষ্ট বোঝা যায়, সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে পশ্চিম এশিয়ার যোগসূত্র স্থাপন করে রেখেছে বাংলাদেশ তার আপন ভূখণ্ডের বৈচিত্র্য দিয়ে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব রাষ্ট্রটি হচ্ছে মিয়ানমার। এর পাশে রয়েছে চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া। তাছাড়া রয়েছে ভুটান, নেপাল ও সিকিম। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক দিয়ে এই প্রতিটি দেশই নিকটবর্তী।
কিন্তু আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে রোহিঙ্গা ইস্যুটি। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি সংকট। শুধু সংকট বললে ভুল হবে, বলা যায় ভয়াবহ সংকট। এ সংকটের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে। এ সংকট থেকে বাংলাদেশকে বেরিয়ে আসতে হলে বিভিন্ন দিক নিয়ে চিন্তা করতে হবে। প্রথমেই চিন্তা করতে হবে রাজনীতি নিয়ে। রাজনীতিতে ঐক্য থাকলে সংকট সমাধান সহজ হয়। রাজনীতিতে বিভদ-বিভক্তি থাকলে রোহিঙ্গা সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। কাজেই এক্ষেত্রে দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে, সৃষ্টি করতে হবে জাতীয় ঐক্য। বিভক্তি ও বিভাজন নিয়ে কোনো জাতি সামনে এগোতে পারে না, কোনো সংকটেরও করতে পারে না সমাধান। বিভক্ত জাতি আশাহীন, সাহসহীন এক বিপন্ন জাতিতে পরিণত হয়। মনে রাখতে হবে, সরকারের কোনো মত পছন্দ না হলে প্রতিবাদ অবশ্যই হবে এবং সে প্রতিবাদ জরুরিও। কারণ তা সরকারকে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করে।
রোহিঙ্গা সংকটের গভীরে যেতে হবে, ভাবতে হবে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে। রোহিঙ্গারা যেখানে অবস্থান করছে, সেটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি অঞ্চল। ওই অঞ্চলটি অশান্ত হলে বা ওই জায়গায় কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তার প্রভাব গোটা বাংলাদেশেই পড়বে। প্রভাব পড়বে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও অর্থনীতিতে।
মিয়ানমার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রমাণ মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের বক্তব্যে পাওয়া গেছে। তাছাড়া মিয়ানমারের হেলিকপ্টার ও ড্রোন বেশ কয়েকবার বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। সীমান্তজুড়ে বসানো হচ্ছে মাইন, যা আমাদের চিন্তার কারণ। আর আমরা করছি পরস্পরের প্রতি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি। প্রতিদিন আমাদের রাজনৈতিক নেতারা একে অপরের ওপর করছেন দোষারোপ। এটি বর্তমান সময়ে কোনোভাবেই কাম্য নয়। দেশের এই ক্রান্তি সময়ে আমরা রাজনীতিকদের মাঝে ঐক্য দেখতে চাই। তাদের দেখতে চাই এক টেবিলে বসে দেশের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করতে।
দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করার প্রবেশদ্বার বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল। তাছাড়া ‘সেভেন সিস্টার’ বলে খ্যাত ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের প্রবেশদ্বারও বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল। ফলে প্রায় শত কোটি মানুষের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রিত হবে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে। রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বাংলাদেশকে ভোগ করতে হবে। কাজেই আগে দেশের রাজনীতি ঠিক করতে হবে, তৈরি করতে হবে জাতীয় ঐক্য; তাহলেই সংকটের সমাধান সহজ হবে এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার বাধ্য হবে।
মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন : রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Share Button


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ

You cannot copy content of this page

You cannot copy content of this page