রায়পুর-পানপাড়া ও রামগঞ্জ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং, ইট, বালু ও খোয়া উঠে খানাখন্দের সৃষ্ট হওয়ায় রায়পুর-রামগঞ্জ উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে যাতায়াত করছেন। বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে ধুলা-বালি আর বৃষ্টি হলে কাদা পানিতে সড়কটি একাকার হয়ে যায়। প্রতিদিন এ সড়কে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করে। ফলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

স্থানীয়রা জানান, রায়পুর-পানপাড়া ও রামগঞ্জ সড়কের লেংড়া বাজার থেকে পানপাড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি তিনটি ইউনিয়নের সাথে সংযুক্ত এবং রায়পুর উপজেলা সরকারি কলেজে যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়ক। এ ছাড়াও প্রায় ২৫/৩০টি গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন। এ জন্য এ সড়কে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে বলে এলাকাবাসী জানায়।

 

গত রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের লেংড়া বাজার থেকে পানপাড়া বাজার পর্যন্ত রাস্তার ইট-পাথর খোয়া উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার দুই পাশের গাছপালায় ধুলা পড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে। একটা গাড়ি চলে যাওয়ার পর ধুলায় একাকার হয়ে যায় পেছনের দিক। ফলে জনসাধারণ যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ সব গর্তে গাড়ি পড়ে প্রায় সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। রায়পুর-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কারের কাজ চলায় ওই সড়কে এখন যান চলাচল বেশি হয়ে থাকে। তাই জরুরিভিত্তিতে সড়কটির সংস্কার বা মেরামত করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

 

সিএনজি চালক আবুল বাসার ও মানিক বলেন, সড়কটির বেহাল দশার কারণে মাঝে মধ্যেই যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে। তা ছাড়াও রাস্তা খারাপের কারণে যাতায়াতে অনেক কষ্ট হওয়ায় যাত্রীরা গাড়িতে উঠতে চান না বলে জানান তিনি। লেংড়া বাজার থেকে পানপাড়া বাজার পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়কটিতে ছোট বড় প্রায় কয়েক হাজার গর্ত রয়েছে। মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলায় অনেকটা বাধ্য হয়ে এ সড়ক দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।

 

স্থানীয় কেরোয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান কামাল বলেন, প্রতিদিন রায়পুর থেকে মোটরসাইকেলে করে পরিষদে যাওয়ার জন্য এ সড়ক ব্যবহার করতে হয়। সড়কটির দুরবস্থার বিষয়ে অনেকবার বিভিন্ন জায়গায় বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে মানুষের দুর্ভোগ চরমে। তবে শুনেছি সড়কটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো কাজ হচ্ছে না।এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন ভুঁইয়া বলেন, সড়কটি আমি পরিদর্শন করেছি। সড়কটির টেন্ডার কাজ চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থ আসলেই সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু হবে।
Share Button